মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

অটো রিকশায় অবরুদ্ধ কমলনগরের অধিকাংশ সড়ক তীব্র যানজট বাড়ছে দুর্ঘটনা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০, ৬.৪১ পিএম
  • ১৮৩ বার পঠিত

এম. শাহরিয়ার কামাল

সড়কে নিষিদ্ধ অটো-রিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য আর তীব্র যানজটে জনভোগান্তি চরমে পৌচেছে।
১০/১২ বছর বয়সী শিশু ও অদক্ষ চালকের হাতে প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা!
সম্প্রতি এক্সিডেন্টে মারা গেছে পথচারী শিশু, আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন শিশু সহ বৃদ্ধাও।
আর এসব ইজিবাইক ও অটোরিকশার কারণে পথচারীদের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
উপজলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হাজিরহাট,তোরাবগঞ্জ,করইতলা,চরলরেন্স,ফজুমিয়ারহাট, করুনানগর বাজার,চৌধুরীবাজার চৌরাস্তার মোঁড়ে দিনভর যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে করইতলাবাজার হতে চৌধুরী বাজার রোড এলাকায় অনাকাঙ্খিত এ যানজট ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে।
এসব অটো-রিকশা- ইজিবাইকের চালকরা রাস্তায় যেখানে সেখানে অটো থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করে। কখনো কখনো নিয়ন্ত্রন হাড়িয়ে যাত্রীসহ উল্টে পরে সড়কের বাহিরে।

সম্প্রতি করইতলাবাজার থেকে চৌধুরীবাজার যাওয়ার পথিমধ্যে মইরার বাপের গোজা নামক স্থানে অটো-রিকশা চাপায় গুরুতর আহত হয় স্থানীয় নুর নবীর পুত্র শাকিল৷ (৮)।পরে নোয়াখালী হসপিটালে নেয়ার পথিমধ্য শাকিল মারা যায়।
চরমার্টিন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাসীন্দা আবুল খায়ের(৫০)’র শরীরে অটো-রিকশা উঠিয়ে দেয় দশ বছর বয়সী চালক জসিম উদ্দিন।
আহতকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থার বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে
মাইজদি জেনারেল হসপিটালে রেপার্ড করে।সেখান থেকে মাথায় আঘাতজনিত কারনে তাকে ঢাকায় নিওরো সায়েন্স ল্যাবরেটরী হসপিটালে প্ররণ করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধিন রয়েছে নিরীহ আবুল খায়ের।

লরেন্স ৮ নম্বর ওয়ার্ড ভক্তপাড়া এলাকায় অটোরিকশায় গুরুতর জখম হয় স্থানীয় জাকের হোসেন বাচ্ছুর পুত্র সাব্বির (৫)
মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়া সহ বাম পা বাম হাত ভেঙ্গে যায়।
শিশু সাব্বির বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করছে।

শিশু শাব্বিরের পিতা জাকের বলেন,মাত্র দশ বার বছরের বাচ্ছারা চালাচ্ছে অটো-রিকশা।
বাচ্ছারা বেপরোয়া গতিতে অটো-রিকশা চালানো রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়া আবার নিষিদ্ধ গাড়ি সড়কে দাবরিয়ে বেড়ানো এসব সবই প্রশাসনিক
দুর্বলতা এমনটাই বললেন তিন।

এ উপজেলায় কতগুলো ইজিবাইক আর অটোরিকশা চলাচল করে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছেই নেই। তবে বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ হাজার অটো-রিকশা ইজিবাইক এ উপজেলায় চলাচল করছে। কিন্তু ভুক্তভোগী অনেকের মতেই এ সংখ্যা ৫/৬ হাজারের কম নয়।

কলেজ শিক্ষার্থী রিমন বলেন, ইচ্ছে থাকলেও হেঁটে কলেজে যেতে পারি না, যানজটের কারণে দশ কদমও যাওয়া যায় না। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আমানত উল্লাহ বলেন,প্রতিনীয়ত ইজিবাইক, রিকশা, বাস, ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর সবই চলাচল করে সড়কের উপর দিয়ে।এসব পরিবহন চলাচলে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারীর অভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রনহীন ও বেপরোয়া চলাচল করছে।
তবে কোথাও ইজিবাইক আর অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় সড়ক অবরুদ্ধ করে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ বললেন তিনি।

একদিকে,দ্রুত গতির অটো-রিকশা,ইজিবাইক,অন্যদিকে ইটভাটার মালবাহী পাওয়ার টিলারের লাগামহীন দৌরাত্ম্য যানজট যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ কমলনগরবাসী।
এছাড়াও অননুমোদিত এসব অটো-রিকশা,ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ করতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় পুরো উপজেলাব্যপী চলছে লাগামহীন লোডশেডিং।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাজার হাজিরহাট,করুনানগর,লরেন্সবাজার,করইতলাবাজার,তোরাবগঞ্জ বাজার,মুন্সীরহাট,মতিরহাট,চৌধুরীবাজার,ফজুমিয়ারহাট,ফাজেল ব্যপারীরহাট বাজারের মূল সড়কগুলো অটো-রিকশা,ইজিবাইক আর পাওয়ার টিলারের দখলে রয়েছে। যে যেভাবে ইচ্ছে ওভাবেই চালাচ্ছে এসব পরিবহন গাড়িগুলো। নির্ধারিত ষ্টান্ড বা পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের সিংহভাগ দখল করেই যাত্রী উঠানামা করছে। আবার যাত্রীর জন্য অপেক্ষা তা ও আবার মূল সড়ক দখলে রেখেই। কে মানছে কার কথা!

পথচারী ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের মতে,অটো-রিকশা,ইজিবাইক’র মতো
এসব যানবাহনগুলো চালাতে নুন্যতম দক্ষতার বালাই না থাকায় ১০/১২ বছর বয়সী শিশুদের হাতে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে অটো-রিকশা, ইজিবাইক। এতে বাড়ছে পর্যাপ্ত শিশু শ্রম।
বাড়ছে এক্সিডেন্ট প্রবণতা। সড়কে যানজট নিরসন সহ এক্সিডেন্ট রোধে সড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষ এসব যানবাহন পরিবহনে দ্রুততার সহিত নীতিমালা তৈরী করার পরামর্শ দিয়েছেন এ ব্যবসায়ী।

এদিকে চালকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক আটক করে জরিমানা আদায় করা হলেও লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা ট্রাফিক আইন বিষয়ে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না।

বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচলকারী অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায়ই ১০ হাজার । যার কোনো রুট পারমিট ও বৈধ লাইসেন্স নেই, নেই কোনো চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স। এমনকি চালকদের অধিকাংশেরই ন্যূনতম ট্রাফিক আইন জ্ঞানটুকু পর্যন্ত নেই।

হাজিরহাট বাজারে অটো-রিকশা চালক মাঈন উদ্দিন বলেন, অসৎ কোনো কাজ না করে আমার মতো হাজার হাজার বেকার যুবক এসব যানবাহন চালিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু আমাদের সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না। তবে নির্ধারিত স্ট্যান্ড আর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই মূল সড়ক অবস্থান করতে হয়, আর এতে লোকজনের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। লাইসেন্স না থাকার অজুহাতে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ধরনের যানবাহন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। আবার বিকল্প কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না করে একবারে বন্ধও করা যাবে না। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহনকে আইন-কানুনের কাঠামো ও সুষ্ঠু নীতিমালার আওতার মধ্যে আনা জরুরি।

নিষিদ্ধ অটো-রিকশা ইজিবাইকের ব্যটারী চার্জ বিষয়ে জানতে চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কমলনগর-রামগতি জোনাল অফিস ডিজিএম আবু বকর ছিদ্দিক বরাবর ফোন করা হলে তিনি বলেন,ব্যটারী চালিত অটো-রিকশা ইজিবাইক সড়কে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কোনমতেই ব্যাটারী চার্জ করা যাবেনা।চার্জ দেয়া বন্ধে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষ বরাবর ইতোমধ্যে শুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলনগর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) প্রবীর কুমার বলেন, সরকারি নির্দেশনায় প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করতে ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, তারপরও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি কারখানা ও ইজিবাইক বিক্রয় সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম.শাহরিয়ার কামাল
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।
মোবাইল:০১৭২৭৫৪৭৫২৩
তারিখ: ৩-১০-২০২০

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil