মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

আগামীকাল সোমবার মরহুম এ,এফ,এম মৌলভী নুরুল্লাহ খাঁন সাহেবের ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী – রুপান্তরবিডি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০, ৯.২৩ পিএম
  • ২৭৯ বার পঠিত

মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ- কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচরের কৃতি সন্ডান জননেতা ও প্রখ্যাত সমাজ সেবক মরহুম এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খাঁন সাহেবের ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ২৭ এপ্রিল সোমবার।

তিনি অর্ধ-শতাব্দী কালযাবৎ জন প্রতিনিধি হিসেবে জনগনের সঙ্গে নিবিরভাবে মাঠ পর্যায়ে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার পর ১৯৮৪ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন।

মরহুম এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান সাহেব বাংলা ১৩০৭ সালের ৪ ভাদ্র, ইংরেজী ১৯০০ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার খড়কমারা গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মৌলভী আব্দুস সবুর।

স্থানীয় পাঠশালায় তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করে ঢাকা মাদ্রাসা হইতে জামাতে উলা। ১৯২২ সালে নিউ স্কিম মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমানুসারে বিশেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ। ১৯২৪ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হইতে প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা ইসলামিক ষ্ট্যাডিস বিভাগে অনার্সে উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণি লাভ করেন।

সরকারী চাকুরীর মোহ ত্যাগ করে সমাজ সেবায় ব্রত ও গ্রামে উনার অবস্থান। ১৯২৮ সাল হইতে তাঁতারকান্দি এম ই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৭ সালে স্কুলটিকে হাই স্কুলে রুপান্তর করেন এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তাহারই উদ্দ্যোগে স্কুলটি কুলিয়ারচর হাই স্কুল নামকরন করা হয়। বর্তমানে স্কুলটি কুলিয়ারচর সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয়। ওই স্কুলে তিনি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সাক্রেটারী ছিলেন।

মরহুম এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান সাহেব ১৯২৯ – ১৯৭১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুলিয়ারচর ইউনিয়ন বোর্ড, কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান ছিলেন।

১৯৩০ সাল হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ লোকাল বোর্ডের সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন একটানা ২২ বছর। মনোনীত সদস্য ছিলেন ১৯৩২ – ১৯৪৫ সাল, নির্বাচিত সদস্য ছিলেন ১৯৪৫ – ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত।

১৯৫১ – ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পদাধিকার বলে কুলিয়ারচরের প্রথম সাবরেজিস্টার ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কুলিয়ারচর ঋণ সালিসী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাজিতপুর বিশেষ ঋণ সালিসী বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

মরহুম এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান সাহেব ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি কুলিয়ারচর নুরুল উলুম মাদ্রাসা(১৯৪০) এবং সভাপতি কুলিয়ারচর দশ গম্বুজ জামে মসজিদ কমিটি। ১৯৩৭-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য। ১৯৩৪ সালে কুলিয়ারচর বাজার হইতে পতিতালয় উচ্ছেদ উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন।

১৯৪৫ সালে সমাজ সেবার স্বীকৃতি স্বরুপ ব্রিটিশ সরকার হতে “খান সাহেব” উপাধিতে ভুষিত হয়েছিলেন।

তিনি ছিলেন বিশিষ্ট সমবায়ী প্রতিষ্ঠাতা-ডাইরেক্টর কিশোরগঞ্জ মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, প্রতিষ্ঠাতা – ভাইস চেয়ারম্যান ময়মনসিংহ জেলা মৎসজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, ডাইরেক্টর ময়মনসিংহ ল্যান্ড মর্টগেজ ব্যাংক লিঃ, ডাইরেক্টর ইস্ট পাকিস্তান কো-অপারেটিভ ইনস্যুরেন্স কম্পানী লিঃ, সদস্য গভর্নিং বডি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ। সদস্য পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পাট কমিটি (১৯৫১-১৯৫৪)।

সদস্য, পূর্ব পাকিস্তান ওয়াকর্ফ বোর্ড (১৯৬২ – ১৯৬৩)। মনোনীত সদস্য ঢাকা বিভাগীয় কাউন্সিল (১৯৬১ – ১৯৬৫) এবং নির্বাচিত সদস্য (১৯৬৫ – ১৯৭০)। সদস্য, পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদ(১৯৬২-১৯৬৫)। অর্থ দপ্তরের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারী(১৯৬২-১৯৬৫)। সভাপতি কুলিয়ারচর থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত আইন সভা সদস্য পদপ্রার্থী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত জাতীয় পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় খান সাহেব জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ও বিশেষ করে কুলিয়ার চরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হাওর উন্নয়ন পরামর্শক কমিটির সদস্য। ১৯৭৯ – ১৯৮১ সালে সদস্য ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। কুলিয়ারচরে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তক। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে সরকারীভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন।

কুলিয়ারচর পনির কারখানা, বাদাম মিল, যান্ত্রিক চাষাবাদের কার্যালয় স্থাপন(বি,এ,ডি,সি) ও ছয়সূতীতে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনে উদ্দ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করেন তিনি।

ত্রিশ দশকের গোড়া হতে এতদ অঞ্চলে শরীয়ত ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপে জিহাদী ভুমিকায় অবতীর্ণ হন এবং জনগনের সমর্থন নিয়ে এই সব গর্হিত কাজ হতে সমাজকে বিরত রাখার সংগ্রামে জয়ী হন।

মরহুম মৌলভী এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান সাহেবের ১৯৮৪ সালে ২৭শে এপ্রিল শুক্রবার, বাংলা ১৪ই বৈশাখ ১৩৯১ সালে ৮৪ বছর বয়সে ঢাকা ইন্তেকাল করেন। ২৮শে এপ্রিল কুলিয়ারচরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের পর চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।

২০০২ সালের ১০ই এপ্রিল, কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সিদ্বান্ত অনুযায়ী কান্দিগ্রাম-দ্বারিয়া কান্দি থেকে কুলিয়ারচর বেলি ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক “খান সাহেব মৌলভী – এ,এফ,এম নুরুল্লাহ সড়ক” নামকরন করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান ও কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উক্ত রাস্তার নামফলক উন্মোচন করেন।

মরহুমের ছেলে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল মিল্লাত দেশবাসীর নিকট তার বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil