শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

এবার করোনার সেবক জনতার ডাঃ মঞ্জু – রুপান্তরবিডি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০, ৬.১০ পিএম
  • ৪১২ বার পঠিত

এম. শাহরিয়ার কামাল: বরাবরই আলোচনায় উঠে আসছেন ডাক্তার হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন সাদামাটা মানুষ ডাক্তার মীর আমিনুল ইসলাম মঞ্জু।

নিরহংকার এই চিকিৎসক সেবক হিসেবে নিজের সব অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা উজার করে গ্রামীণ অজপাঁঁড়া
রুগিদের সহায়ক বন্ধু হিসেবেও আলোচনায় উঠেছেন বেশ কয়েকবার।

গোটা বিশ্ব আজ করোনা আতঙ্কে কম্পিত চাওয়া একটাই বাঁচাও বাঁচতে চাই.. জাতির এই কিয়ামত দিবশে সৃষ্টি কর্তার পরে চিকিৎসকরাই এখন মানুষের বাঁচার ভরসা।

ডাক্তারদের মরন ঝুঁকি, নির্ঘুম রাত জেগে রুগির সেবা, আবার অগণিত জীবনের আত্বহুতি ইতিহাস চিরদিন স্মরণ রাখবে, খুচিঁত রাখবে স্বর্ণ লিখা মুদ্রায়।

বলছি করোনা যুদ্ধে হার না মানা
জনতার সেবক ডাক্তার মীর আমিনুল ইসলাম মঞ্জুর কথা। কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে বরাবরই তিনি প্রশংসায় পঞ্চমুখ। স্বাস্থ্য সেবায় উপজেলাবাসীর প্রান কেঁড়েছেন বহু আগেই। লোকজন খুশি হয়ে তাকে কখনো ডাকেন “গরীবের ডাক্তার আবার কখনো জনতার ডাক্তার”


স্বচোখে দেখেছি জীবনের মায়া ত্যাগ করে নির্ঘুম ছুটে ফেরা তার।আবার করোনায় না’ফেরা মানুষটার স্বজনরা যখন পালিয়ে ঠিক তখনো সমাধিস্থলে দাঁড়িয়ে করছেন অবিরাম বাঁচানোর চেষ্টা।

কে জানে রুগির জন্য নিজের জিবনকে বিপন্ন করে দেয়া এই মানুষটি কখন সংক্রমিত হচ্ছেন কোভিডের থাবায়! তবে নিজের বা পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এখনো নিজের কর্তব্য থেকে বিরত থাকার কথা শুনিনি তার।
জাতি এমনসব ডাক্তারদের নিয়ে গর্বিত। এই ক্রান্তিলগ্নে জাতির পক্ষ থেকে এমনসব আন্তরিক সেবকদের প্রতি অভিবাদন ও সংগ্রামী স্যালুট।

“নিজের মায়ের চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার মঞ্জুর উদারতার কথা তুলে ধরে সাংবাদিক ছেলে তার ফেসবুক ষ্টাটাসে লিখেন”

আমার মাকে মা বলে ডাকলেন স্যার! আমি স্যারের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলাম, নিজের অজান্তেই দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে শুরু হল আমার! স্যার কারন জিঙ্গেস করতেই আমি নিজেকে গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করলাম। ভেজা কন্ঠে আলতোস্বরে বললাম স্যার আমার মা সুস্থ্য হবে’তো? পকেট থেকে রুমাল নিয়ে আমার গাল গড়িয়ে পরা অশ্রুগুলো মুছে দিয়ে স্যার বললেন,ধৈর্য রাখুন মা অবস্যই সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।আর আপনার মা’তো আমার’ই “মা”। আর চিকিৎসক হয়ে রোগিদের সেবা করা এটা আমার দায়ীত্বও বটে। সুস্থ্য হয়ে রুগিরা আমাকে প্রানভরে দোয়া করবে এতেই আমার কষ্ট সফল হবে এ স্বপ্ন নিয়েই আমি এ পেশায় আছি। এরপর যতোদিন মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মায়ের প্রতি স্যার ছিলেন অধিক দায়িত্ব ও যত্নশীল।আমার মাকে স্যার ঢাকায় রেফার্ড করলেন মা আমার ঢাকায় গেলেন সুস্থ হতে। ঢাকা থেকে আর ফিরলেন না মা! খবরটায় যেন আমার চেয়েও বেশিগুন কষ্ট পেয়েছেন স্যার। ততোক্ষণে বুজলাম মানুষ স্যারকে কেন গরীবের ডাক্তার বলে ডাকেন।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাবিশ্ব আজ টালমাটাল।
বিশেষভাবে চিকিৎসকরাই ২৪ ঘণ্টা রুগীর সেবায় মরিয়া।
প্রিয় পাঠক একবার ভাবুন আপনার-আমার সেবা করতে গিয়ে ডাক্তাররাই স্বেচ্ছায় করোনার সাগরে ঝাঁপ দিতে হচ্ছে।
গণমাধ্যমকর্মী হিসাবে সর্বদাই ডাক্তারদের দোষ খুঁজে বেড়াই। এখানেও হয়ত আমাদের কোন না কোন সহকর্মী বলবেন এটা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। না এটা বলার সুযোগ নেই।
ডাক্তার হিসেবে রুগিদের চিকিৎসা দিবেন এটা নির্মম সত্য,তবে জেনে বুজে জিবনকে মৃতুর দিকে ধাবিত করা বিশেষ করে কারোনা রোগির চিকিৎসা দিতে গিয়ে ডাক্তারদের ভয়ানক আত্বত্যাগ এটা চিকিৎসকদের বেলাতেই মাইলফলক।

বাস্তবতা হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ডাক্তাররাই মানুষের বিপদের দিনে পাশে দাড়িয়ে। [যথার্থতা প্রমাণিত]

এবারো ডাঃ মঞ্জুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়
জানা যায়,
করোনা মোকাবিলায় ডাক্তার মঞ্জুই প্রথমে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহন করেন। সারাদেশের মতো কমলনগর উপজেলাকে করোনামুক্ত রাখা সহ এর প্রতিকারে রুগিদের সুরক্ষা দিতে হাসপাতালেই
আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেন।

ডাক্তার মঞ্জুর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে
উপজেলা চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলে ২০ শয্যার ওই আইসোলেশন ওয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন।

পরবর্তী সময়ে উপজেলার প্রত্যন্তঞ্চলে কর্মরত ডাক্তার,ফার্মাসিষ্ট
, গ্রাম্য চিকিৎসক, সুশিল সমাজ,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জনপ্রতিনিধি,উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে নিয়ে
উপজেলা পরিষদ হল রুমে জরুরি সভার আয়োজন করে করোনাভাইরাস কি?এবং কি কি পদক্ষেপের মাধ্যমে এ
ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এ সম্পর্কিত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেন।

পাশাপাশি কোথাও কোন ব্যক্তির শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে এমন
খবর এলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেল টিম সাথে নিয়ে রুগির বাড়িতে হাজির হয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহে তার আন্তরিকতা অপরিশিম। এছাড়াও
মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ শেষে প্রয়োজনে বাড়ি লকডাউনে অগ্রণী ভুমিকা রাখছেন
তিনি।
ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন বরাবর সুপারিশ করে চিকিৎসাসেবায় কর্মরত সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (ppe) ব্যবস্থা করে সকলের দৃষ্টি কেড়েঁছেন মানবিক এই জনতার ডাক্তার।

প্রসঙ্গত: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর এমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডাক্তার মীর আমিনুল ইসলাম মঞ্জু । সরকারী দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কমলনগরে নিজের চেম্বারে রীতিমতো মানুষদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তিনি।

অসহায় গরীব মানুষদের চিকিৎসা করতে খুবই অল্প পরিমাণ টাকা ভিজিট নিয়ে থাকেন। খুশি হয়ে লোকজন তাওকে কখনো “গরীবের ডাক্তার’ কখনো জনতার ডাক্তার” নামে ডাকেন। চিকিৎসক হিসেবেও অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে যায়গা করে নিয়েছেন ইতোমধ্যে। এছাড়াও একজন প্রিয় মানুষ হিসেবে সর্বস্থরে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil