শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

কমলনগরে মেঘনার তীব্র ভাঙন- সব হারিয়ে আশ্রয়ের জন্য ছুটছে নদী তীরের মানুষ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭.০৫ এএম
  • ১১৭ বার পঠিত

এম.শাহরিয়ার কামাল:

রাক্ষুসে মেঘনার তীব্র ভাঙনে একদিনেই ২৫টি দোকানঘর সহ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া নদী তীরবর্তি সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাকা সড়ক ও কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বহু আগেই বিলীন হয়েছে।

এর আগে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ভাঙন রোধে নামে মাত্র বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিং করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে চোঁখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি সহ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। তাছাড়া ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আগে-ভাগে পাউবো‘র প্রকৌশলীরা টেকসই ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সহায় সম্বলসহ সর্বস্ব হারিয়ে ভাঙন কবলিত মানুষগুলো লক্ষ্মীপুর-রামগতি মহাসড়কের পাশে আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছে।

ঘর-বাড়ি হারা সর্বশান্ত মানুষের আহাজারিতে এলাকার বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠছে।
এছাড়া গত শুক্রবারে এক দিনের ভাঙনলীলায় উপজেলার লুদুয়া বাঘার হাট এলাকায়
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৫টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে মেঘনা পাড়ের
প্রায় দুই শতাধিক বসত-বাড়ী, আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
ভয়াবহ এমন পরিস্থিতি যেন সাক্ষাৎ কাল-কিয়ামত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
লুধুয়া বাঘারহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা নদীতে দেবে যাওয়া দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন, ভাঙ্গনাতঙ্কে থাকা অগণিত পরিবার অজানা কোথাও আশ্রয় নেয়ার প্রস্ততি নিচ্ছেন।

উপজেলার চরকালকিন,নাছিরগঞ্জ,নবীগঞ্জ,কাদির

পন্ডিতের হাট,সাহেবের হাট,মাতাব্বর হাট,লুদুয়া বাজার,পাটারীর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কিছুদিন আগে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপজেলার মতির হাট থেকে বালুরচর জনতাবাজার,মুন্সিরহাট পর্যন্ত নদী তীরবর্তি ১৭ কিলোমিটার উপকূলীয়
এলাকার সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাকা রাস্তা জোয়ারের পানির ঢলে লন্ডবন্ড হয়ে আছে। অসংখ্য পুল কালভার্ট ভেঙে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

কাদির পন্ডিতের হাট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের, শিক্ষক গোলাম মোস্তফা আজাদ,নবীর হোসেন মাঝি,ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন সহ দশ জনের পাকা ঘর-বাড়ি নদীর কিনারায় রয়েছে। মেঘনার ভাঙ্গণ বাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
এছাড়া
অসংখ্য মসজিদ-মাদ্রাসা, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,দোকান-পাট ঘর বাড়ি- বিশাল জনবসতি পূর্ণ এলাকাসহ আবাদি জমি চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
ভাঙনাতঙ্কে থাকা মেঘনা উপকূলীয় অসহায় মানুষের
বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।

কমলনগর নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও কমলনগর প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল মজিদ নেহাল বলেন,দীর্ঘ চার দশকের অভ্যাহত ভাঙনে কমলনগরের বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হয়ে গেছে, এখনই যদি এ ভাঙন খেলা থামানো না যায় তবে অচিরেই মানচিত্র থেকে কমলনগর হারিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে লুদুয়া বাঘারহাট বাজারের এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বাকি অংশটুকুও বিলীন হওয়ার পথে। যে কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই বাজারের ব্যাবসায়ীরা। এ অবস্থায় নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা ঠেকাতে লুধুয়া বাঘারহাট এলাকায় জিও ব্যাগে পাঁচটি অস্থায়ী স্পার নির্মাণ করা হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনে সেগুলো ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগে সেখানে আরও একটি অস্থায়ী স্পার নির্মাণ করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, মেঘনার ভাঙনরোধে কমলনগর উপজেলাকে রক্ষায় নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের নতুন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।তবে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য অব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil