শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

কমলনগর ফজুমিয়ারহাট-লরেন্স সড়কটির বেহালদশা-সংস্কার জরুরী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬.১২ পিএম
  • ৯৬ বার পঠিত

এম. শাহরিয়ার  কামাল,

মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে গড়ে উঠেছে সড়ক পথ।
আর এই সড়ক পথকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান।
তবে উপজেলা সদর থানা পার্শ্ববর্তি কমলনগর উপকূল সরকারী কলেজ, চর লরেন্স নিকটবর্তি কমলনগর কলেজ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফজুমিয়ারহাট টু লরেন্স সড়কটি। অযত্ন অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে পরিনত হয়েছে মৃত্যুকুপে। দানবের মতো বড়-বড় গর্ত দেখে কেউ কেউ আবার বলছেন এটি সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদ।
সড়কটি প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মতো লম্বা। উপজেলার চরবসু, বাদামতলি,বটতলি,ইমানআলী মার্কেট,তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষ উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজার,হাজির হাট থানা,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র কানেকটিং সড়ক এটি।
এসব অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের
প্রধান এই সড়কটি থেকে ইটের সলিং উঠে গিয়ে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচল অনুপযোগি হয়েছে বহু আগই। বর্ষার অবিরাম বর্ষণে সড়কটি পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে যানচলাচল বন্ধ থাকায় ফজুমিয়ারহাট ও আশপাশ এলাকার মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
দীর্ঘ বছর ধরে সড়কের এমন দশা থাকলেও কোনো কর্তৃপক্ষকে সড়কটি মেরামত করতে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। যে কারণে স্থানীয় ও ব্যবসায়ী মহলের লোকজন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর পূর্বে ফজুমিয়ারহাট ও লরেন্সবাসীকে সহজে উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। কাদিরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন রাজু ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজেসে নিম্ম মানের সামগ্রি দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠে ঐ সময়ে। তারপর ম্যানেজ মাইন্ড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করেন তারা। নির্মাণের বছর না পেরুতেই পুরোপুরি ধশে যায় সড়কটি
এরপর কয়েক বছর পার হলেও সড়কটি আর মেরামত করা হয়নি।
এক সময় এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করতো। শ্রমজীবিরা অটো-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো, অফিস পাড়া সহ গঞ্জের মোড়ে-মোড়ে গড়ে উঠা দোকানপাট গুলো থাকতো মুখরিত। সড়কটির আশু উন্নয়নে স্থানীয়রা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালক বধূ মিয়া ভোরের কাগজকে বলেন, রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কিন্তু কিছুই করার নেই, পেটের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অচিরেই সড়কটি সংস্কার করা উচিত।

সিএনজি চালক ফজুমিয়ার হাটের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন জানান, অচিরেই সড়কটি সংস্কার করা না হলে আমাদের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। সড়কটি জনস্বার্থে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মোখলেছুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা জন্মলঘ্ন থেকে সড়কটি দেখছি। দীর্ঘ বছর আগে তৎকালীন সরকার উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য সড়কটি নির্মাণ করে দিলেও অযত্নে, অবহেলায় এবং কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অভাবে সড়কটির এমন দশা হয়েছে। যদি সড়কটি মেরামত বা সংস্কার করে না দেওয়া হয় তাহলে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়বে। তাই সরকারের উচিত জনসাধারণের কথা ভেবে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করে দেওয়া।

এছাড়াও উপজেলার তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট রোডের বলিরপুল বাজার থেকে মতিরহাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কে চলাচল করা একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
চৌধুরীবাজার হয়ে নবীগঞ্জ টু লরেন্সবাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ভক্তপাড়া থেকে লরেন্সবাজার প্রবেশের এক কিঃমিঃ রাস্তা বেহাল দশায় পরে আছে।
এছাড়া নদী তীরবর্তি কাদিরপন্ডিতেরহাট থেকে দেওয়ান মার্কেট হয়ে উপজেলা সদর হাজির হাটে প্রবেশের পাচঁ কি:মি:সড়কের এক কি:মি: জোয়ারের প্রবল ধাক্কায় একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে।ফলে কাদিরপন্ডিতের হাট বাজারটিতে পন্যবাহী গাড়ি প্রবেশ বন্ধ হয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অতিগুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কগুলো নির্মাণের মূখ না দেখায় ইতোমধ্যে যানচলাচল বন্ধ হওয়া সহ জনদূর্ভোগ চরমে পৌচেছে।

কমলনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী ভোরের কাগজকে বলেন,ফজুমিয়ারহাট-লরেন্স সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশাকরি নতুন অর্থবছরে এ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। নদী তীরবর্তি
জোয়ারের পানিতে ধশে যাওয়া রাস্তাঘাট সহ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ্য সড়কগুলো মেরামতে দ্রুততার সহিত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী
সোহেল আনোয়ার জানান, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণ করার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা৷ হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তমা এন্টার প্রাইজ কাজটি পেয়েছে। এ পর্যন্ত৷ বেস কয়েকবার প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে। চেষ্টা করছি দ্রুততার সহিত সড়কটি সংস্কার করার জন্য।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা এন্টার প্রাইজকে ফোন করা হলে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।

এম.শাহরিয়ার কামাল
কমলনগর লক্ষ্মীপুর
মোবাইল:০১৭২৭৫৪৭৫২৩
তারিখ: ২৭-৯-২০২০

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil