শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভৈরবে ঈদে মিল্লাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুছের শোভাযাত্রা ভৈরবে নিরাপদ সড়ক চাই আয়োজনে লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ শক্তি দিয়ে নয় মানুষের ভালবাসা দিয়ে জয়ী হতে চাই – চেয়ারম্যান প্রার্থী আরেফিন চৌধুরীর ভৈরবে তেয়ারীরচরে এডভোকেট আবুল বাসারের নির্বাচনী গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নবাসীর সাথে সরকার সাফায়েত উল্লাহ’র নির্বাচনী মতবিনিময় সভা ভৈরবে ৩ প্রতিষ্টান সিলগালা ৬০ লাখ টাকার জাল ধ্বংস বড়লেখা ফাউন্ডেশন ইউ কে উদ্যোগে আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠান শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও আল্লাহর ক্ষমার নমুনা ভৈরবে র‌্যাবের হাতে ভারতীয় ৫ লক্ষাধিক ট্যাবলেট ও ৯৭ পিস ভারতীয় কাতান শাড়ী উদ্ধার ভৈরবে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরন

করোনা ভাইরাস নিয়ে লায়ন মশিউর আহমেদ যা বললেন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ২.২৮ পিএম
  • ১৫০ বার পঠিত

মো: মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি থেকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত একটা পোস্টের বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য ও লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশ এর মাল্ট্রপল সেক্রেটারি লায়ন মশিউর আহমেদ।

তিনি গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে এটি গণমাধ্যমে প্রচার করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, এটা থেকে করোনার বৈশিষ্ট, গতি -প্রকৃতি ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা পাওয়া যাবে।

* ভাইরাস জীবন্ত প্রাণী নয়। এটি প্রোটিনের অণু (ডিএনএ) যা লিপিডের (চর্বি) মোড়কে মোড়ানো।এটা আমাদের নাক-চোখ-মুখের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে গেলে নিজের জেনেটিক কোড বদলে ফেলে শক্তিশালী ও আত্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

* ভাইরাস যেহেতু কেবলই একটি প্রোটিন অণু এবং জীবন্ত নয় তাই এটাকে মেরেও ফেলা যায় না। তবে সে নিজে থেকে ধ্বংস হতে পারে। এটা কতক্ষণে ধ্বংস বা ক্ষয় হবে তা নির্ভর করে এর থাকার স্থানটির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও স্থানটি কী উপাদানে তৈরি, তার উপরে।

* করোনা ভাইরাস ভঙ্গুর কারণ সুরক্ষার জন্য তা কেবল একটি চর্বির স্তর দিয়ে মোড়ানো। এ কারণেই সাবান ও ডিটারজেন্ট ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হবার সহজ উপায়। সাবান ও ডিটারজেন্ট মূলত যে কোনো স্থানের তেল বা চর্বি সরাতে পারে। তেল বা চর্বি সরানোর উদ্দেশ্যে আমাদের অন্তত টানা ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হয় যাতে করে প্রচুর ফেনা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভাইরাসের উপরের চর্বির স্তর ভেঙে গিয়ে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যায়।

* গরম তাপমাত্রা চর্বি গলাতে কার্যকর। এজন্যে হাত বা কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া, সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে গরম পানি ঠান্ডা পানির চেয়ে বেশি ফেনা তৈরি করতে পারে বলে ভাইরাসটিকে আরো দ্রæত অকার্যকর করতে পারে।

* অ্যালকোহল কিংবা অন্তত ৬৫% অ্যালকোহলের মিশ্রণ যে কোনো ধরনের তেল অথবা চর্বি ভাঙার জন্য উপযুক্ত। ভাইরাসের শরীরের বাইরের চর্বির স্তর ভাঙতে অ্যালকোহলের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়।

* এক ভাগ ব্লিচ ও পাঁচ ভাগ পানির মিশ্রণ সরাসরি প্রয়োগে প্রোটিন ভেঙে যায়। তাই এই মিশ্রণ ভাইরাসটিকে ভিতর পর্যন্ত গলিয়ে ধ্বংস করতে পারে।

* সাবান, অ্যালকোহল এবং ক্লোরিন যদি অক্সিজেন চালনা করা পানির (অক্সিজেনেটেড ওয়াটার) সঙ্গে ব্যবহার করা হয় তবে তা অপেক্ষকৃত দীর্ঘ সময় ধরে ভাইরাসের কার্যক্ষমতা ঠেকাতে সাহায্য করে। এর কারণ অক্সিজেন চালনা করা পানিতে থাকা পারঅক্সাইড ভাইরাসের প্রোটিনকে গলিয়ে ফেলতে পারে। এটি বিশুদ্ধ হলে ব্যবহার করা যেতে পারে তবে ত্বকের জন্য সুবিধাজনক নয়।

* ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে যা ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবন্ত প্রাণী নয়। যা জীবন্ত নয় তাকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে হত্যা করার প্রশ্ন নেই। তবে আগে যা যা উপায় বলা হলো সেসব অনুসরণ করে ভাইরাসকে ভেঙে ধ্বংস করা সম্ভব।

* ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত পোশাক, কাপড় বা চাদর ঝাড়া দেয়া যাবে না। কাপড় ঝাড়লে তা থেকে নিসৃত ভাইরাস কোথাও পড়লে সেখানেই আটকে থাকে। কাপড় বা সমধর্মী জিনিসে ৩ ঘণ্টা, তামা বা কাঠে ৪ ঘণ্টা (যেহেতু তামা নিজেই জীবাণু ধ্বংস করতে পারে এবং কাঠ ক্রমাগত আর্দ্রতা হারাতে থাকে), হার্ডবোর্ডের উপরে ২৪ ঘণ্টা, ধাতব জিনিসে ৪২ ঘণ্টা এবং প্লাস্টিকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাসটি টিকে থাকতে পারে। ভাইরাস আছে এমন কিছুকে ঝাড়া দিলে বা তার উপরে পালকের ডাস্টার ব্যবহার করলে ভাইরাসের অণুগুলো বাতাসে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ভাসতে পারে এবং মানুষের নাকে ঢুকে যেতে পারে।

* ভাইরাস অণুগুলো ঠান্ডা আবহাওয়ায়, এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়ি বা গাড়িতে অত্যন্ত ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে। বেশি কার্যকর থাকার জন্য ভাইরাসটির আর্দ্রতা এবং অন্ধকারের উপস্থিতির প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে একদিকে শুকনো বা কম আর্দ্রতাবিশিষ্ট আবহাওয়া, অন্যদিকে, গরম এবং উজ্জ্বল পরিবেশে ভাইরাসটি দ্রæত ধ্বংস হয়।

* ইউভি লাইট ভাইরাসটিকে তার প্রোটিন ভেঙে যে কোনো কিছুর উপর থেকে ধ্বংস করতে পারে। এভাবে একটি মাস্ককে ব্যবহারের পর ভাইরাসমুক্ত করে আবারো ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু ইউভি লাইট যেহেতু ত্বকের কোলাজেন ভেঙে দেয় তাই মুখে বলিরেখা থেকে শুরু করে ত্বকের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

* ভাইরাসটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক ত্বকের ভিতরে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না।

* করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হতে ভিনেগার কার্যকর নয় কারণ ভিনেগার প্রোটিন ধ্বংস করতে পারে না।

* স্প্রিট বা ভদকা ভাইরাসটি ধ্বংস করতে করতে কার্যকর নয়। ভদকায় অ্যালকোহলের সর্বোচ্চ মাত্রা হতে পারে ৪০% কিন্তু ভাইরাসটি ধ্বংস হতে কমপক্ষে ৬৫% অ্যালকোহল দরকার।

* করোনা ভাইরাসকে ধ্বংস করে, অ্যালকোহলসমৃদ্ধ এমন কিছুর কথা ভাবলে একমাত্র বলা যেতে পারে কোনো কোনো লিসটারিনের (মাউথ ওয়াশ) কথা যাতে ৬৫% অ্যালকোহল থাকে। তবে বেশিরভাগ লিসটারিনে থাকে ২০% থেকে ৩০% অ্যালকোহল যা ভাইরাসটি ধ্বংসে কার্যকর নয়।

* বদ্ধ স্থানে ভাইরাসটির প্রকোপ বেশি হবে। উলটোদিকে উন্মুক্ত এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ভাইরাসের উপস্থিতি কম হবে।

* এটা অবশ্য অনেকবার বলা হয়েছে, তবু আরেকবার বললে ক্ষতি নেই যে, নাক, খাবার, দরজার লক, যে কোনো সুইচ, রিমোট কন্ট্রোলার, সেল ফোন, ঘড়ি, কম্পিউটার, টেবিল ও টেলিভিশন জাতীয় জিনিস ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি। ওয়াশরুম ব্যবহার করলে হাত তো ধুতে হবেই।

* বারে বারে ধোয়া হাত ভালোমতো শুকাতেও হবে। কারণ ত্বকের যে কোনো ফাটলে ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। ত্বক আর্দ্রতাকারী লোশন বা ক্রিম যত ভারি ও তৈলাক্ত হয় তত ভালো।

* হাতের নখ ছোটো করে কেটে রাখা উচিত যেন তাতে ভাইরাস ঢুকে থাকতে না পারে। সবাই সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।

বাংলা অনুবাদটি করেছেন, মোঃ হাবিবুর রহমান, ডিআইজি, ঢাকা বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil