বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

করোনা হটস্পট রংপুরে গড়ে প্রতিদিন ১০ জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ৩.৫২ পিএম
  • ১১০ বার পঠিত

মোঃ আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বেপরোয়া চলাফেরায় রংপুরে বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। করনা ভাইরাসে রংপুর জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। যা রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের হার বলছে, রংপুরে গড়ে প্রতিদিন ১০ জনেরও বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে রংপুর মহানগর এলাকায় সংক্রমিত রোগী মারাত্মকভাবে বেড়ে চলছে।

জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৪ এপ্রিল। এরপর থেকে পুরো এপ্রিল মাসে শনাক্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৯ জনে। মে মাসে সেই সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও রংপুর থেকে ঢাকায় পাঠানো নমুনা পরীক্ষার সর্বশেষ গতকাল রবিবারের তথ্য অনুয়ায়ি জেলার মোট করোনা শনাক্ত রোগী ৬৬৯ জন। একদিনে সর্বোচ্চ ৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয় ৮ মে এবং ১১ জুন। মোট আক্রান্তের মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থতার সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন।

নগরীর বুড়িরহাট এলাকার করোনা আক্রান্ত এক রোগী গত বৃহস্পতিবার রংপুর ডেডিকেডেট করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া ওই রোগীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ভর্তি হওয়ার পর কিছু ট্যাবলেট হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। এর পর তাকে একটি প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় এন্টি ভাইরাস জাতীয় ইনজেকশনসহ এসব ওষুধ বাজার থেকে কিনতে হবে। স্বজনরা ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন নিয়ে গেলে ফার্মেসি থেকে বলা হয় ইনজেকশনসহ এসব ওষুধ নিতে প্রায় ২৩ হাজার টাকার মত লাগবে। এত টাকার কথা শুনে ওই রোগীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে রোগী বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সাড়ে তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনে নেন তারা। ওই রোগী আক্ষেপ করে বলেন, ‘করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েও ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় সুষ্ঠু চিকিৎসা পাচ্ছি না। স্বজনরা ওষুধ কিনতে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। না হলে ওষুধ অভাবে হাসপাতালেই মরতে হবে।’

রংপুর ডেডিকেডেট করোনা হাসপাতালে এন্টিভাইরাস ইঞ্জেকশনসহ বেশ কিছু ওষুধের সরবরাহ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই সিটি করপোরেশন এলাকার। এর মধ্যে ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষও রয়েছে। বর্তমানে রংপুর ডেডিকেডিটে করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪১ জন। দেখা গেছে, ১৫ ভাগের একভাগ রোগী মাত্র এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুয়োগ পাচ্ছেন। ওষুধপত্রের সরবরাহ না পেলেও তারা অন্তত চিকিৎসকদের কাছে পাচ্ছেন। কিন্তু বাসায় যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা পড়েছেন নানা সংকটে। বিশিষ্টজনদের অভিমত বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া রোগী সব সুবিধা পাচ্ছেন না। এছাড়া এন্টি ভাইরাস জাতীয় ইনজেকশন কোর্সের দাম ২৩ হাজার টাকার ওপরে হওয়ায় অনেক রোগীর পক্ষে তা কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে এই এন্টি ভাইরাস ইনজেকশনের অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যুর শঙ্কাও রয়েছে।

এন্টি ভাইরাস জাতীয় ইনজেকশন সরবরাহ না থাকা প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ময় কুমার রায় গতকাল রবিবার বিকেলে বলেন, সরকারিভাবে এটি সরবরাহ নেই। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তাই রোগীদের এই ইনজেকশন বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের আপাতত করণীয় কিছু নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে হুহু করে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সিটি করপোরেশনের সক্ষমতাও কমে গেছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ছয়জন টেকনেশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিদিন ৪০ জনে নমুনা সংগ্রহ করছেন। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহের চাহিদা দাঁড়িয়েছে শতাধিক। কিন্ত অর্থ ও জনবল সংকটের কারণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নমুনা সংগ্রহের সংখা বাড়ানো যাচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে সিটি করপোরেশনের এক টাকাও আয় নেই। করোনা নমুনা সংগ্রহে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার ওপর খরচ হচ্ছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের লাশও সিটি করপোরোশনের ফ্রিজিং এম্বুলেন্সে করে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। তবে নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে করোনা প্রতিরোধে রংপুরে গঠিত নাগরিক কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, মানুষের বেপরোয়া চলাফেরা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনা এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যতবেশি নমুনা পরীক্ষা করা হবে, ততই শনাক্তের সংখ্যা বাড়বে। সচেতনতা, সতর্কতা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে না চললে করোনার হটস্পটে পরিণত রংপুরে ভয়াবহ বিপর্যয় মেনে আসবে বলেও জানান তিনি।

সংক্রমণ ঠেকাতে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, করোনা আক্রান্ত সব রোগীকেই হাসপাতালে যেতে হয়না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil