বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

 কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহঃ পরিচালক জহুরুল ইসলামের তুঘলকী কান্ড : গভীর রাতে  সংশোধিত এমপিও’ ভূক্ত কারিগরি এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০, ৮.০৯ পিএম
  • ১৫৩ বার পঠিত

মুঈদ হোসেন আরিফ : একের পর এক সীমাহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা গোটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তিকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছেন মর্মে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বহুল আলোচিত সহঃ পরিচালক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতরো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একদিকে করোনা মহামারীতে যেখানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অধিদপ্তরে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে সেখানে ৭২ ঘন্টার নোটিশে নীরিক্ষা সম্বলিত  ৩১ প্রকার কাগজপত্র জমাদানের নোটিশ দিয়ে রাত ১১টার মতো অস্বাভাবিক সময়ে  সংশোধিত এমপিও’ ভূক্ত কারিগরি এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। যা আলোচ্য জহুরুল ইসলামের জন্য সর্বকালের সেরা তুঘলকিকান্ডের রেকর্ড বলেও অনেকে বলছেন।

উল্লেখ্য,৩০ শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টায় সংশোধিত এমপিও’ ভূক্ত কারিগরি এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহঃ পরিচালক জহুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে ৩১ প্রকারের কাগজসহ জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে হার্ড কপি এবং পেনড্রাইভে সফট কপি রবিবারে (৩ মে) জমা দিতে বলা হয়।  বৃহস্পতিবার রাতে তালিকা প্রকাশ, শুক্রবার- শনিবার ছুটি তারপর  লক ডাউনের মধ্যে ৩১ প্রকার কাগজ দিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে কাগজ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি অকল্পনীয় এবং অবাস্তব পত্র ইস্যু করা হয়, যা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষা  মন্ত্রালয়ের ভাবমূর্তী নষ্ট হয়েছে। ৩১ প্রকার কাগজের তালিকার মধ্যে এক প্রকার হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাচাইকৃত প্রমানসহ জমা দেওয়া লাগবে। বোর্ড সমূহ দেড় মাসে সম্ভব হলেও  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অদ্যবধি খোলেনি বা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে একটা মানুষ কতোটা দূর্নীতিবাজ হলে পরে এমনটি করতে পারে যা দাপুটে জহুরুল ইসলাম তার  অদৃশ্য খুঁটির জোরে করতে সক্ষম হয়েছেন? কী সেই রহস্য?

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও’  সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ন যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সহকারী পরিচালক- ৮ মো. জহুরুল ইসলাম কে সর্বোচ্চ অগ্রাধীকার দেন। ডিডি বা ডাইরেক্টরের কোন মূল্যায়ন করা হয় না। সহকারী পরিচালক- ৮ মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, সেচ্ছা- চারীতা, সরকার বিরোধী কথাবার্তা তথ্য প্রমানসহ অভিযোগ ও পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করা হলেও ৩ মাসে ও এর কোন সমাধান হয়নি। তবে অনেক বিলম্ব হলেও তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ৮ ই জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দে সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল স্বক্ষরীত একটি পত্র মহাপরিচালক বরাবর ইস্যু করা হয়  যার নথি নং ৫৭.০০.০০০০.০৫৩.১৯.০০৪.১৮.১১০। সংশ্লিষ্ট কোনঠাঁসা হয়ে পড়া অনেকেই মুখ টিপে বলছেন কাজের কাজ এ পর্যন্তই। জহুরুল সব বন্ধ করে দিয়েছে।এমনটাই জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রযুক্তির ব্যাবহার সবার উপরে থাকবে এমনটি দেশবাসীর প্রত্যাশা। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এগুলোর ধারে কাছেও যেতে পারেনি এই অধিদপ্তর। কিন্তু কেনো? গোটা অধিদপ্তরকে ডুবাতে এক  জহুরুলের সাথে আর কারা রয়েছেন? এমনি প্রশ্নঘুরছে সর্বত্র।

একধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন বোর্ডে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ যাঁচায় করতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক করোনা পজেটিভ হয়েছেন। এই মর্মে মাগুরার একটি কারিগরি এমপিও ভূক্ত প্রতিষ্ঠান সাংবাদিক সম্মেলন করে  বিষয়টি নজরে নিয়ে এসেছেন।একই সাথে উঠে এসেছে  বহুল আলোচিত জহিরুলের নাম। একের পর এক দূর্নীীতি আর সীমাহীন স্বে”চ্ছাচারীতার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।

জানা গেছে,গেলো মার্চ  মাসের শেষের দিকে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ে দূর্নীতি ও সেচ্ছা-চারী, সরকারের ভাবমূর্তী নষ্টকারী  কারিগরি শিক্ষা  প্রসারের প্রতিবন্ধক সহকারী মো.জহুরুল ইসলাম এর স্থলে একটি টি এস সি – এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় পদায়নের জন্য ব্যবস্থা নিতে বললে এই প্রস্তাবটি নথিতে দিয়ে উঠানো হয়, কিন্তু এটি জহুরুলের এলাকার ভাই সচিব মহোদয়ের দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নথিটি দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস গোপনে  লুকিয়ে রাখেন।

উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে কয়েকজন প্রেষণে থাকা  কর্মকর্তাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহারের জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মহোদয়ের নিকট পত্র প্রেরণ করা হলেও এমন ভাবে নথি গোপন রেখে বিলম্ব করার অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের দপ্তর থেকে সহকারী পরিচালক-৮ জনাব মো.জহুরুল ইসলাম এর বদলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তড়িঘড়ি করে নথিটি আলোতে বেরিয়ে  আসে। এরপর বিষয়টি বুঝতে  পেরে ই-নথিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন মন্ত্রী মহোদয়ের আদেশ বা সুপারিশ বাস্তবায়নে একজন এডি বা সিনিয়র ইন্সট্রাকটরকে বদলি করতে তিন মাস সময় ক্ষেপন করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাজের গতি বা সরকারী সিদ্ধান্ত  বাস্তবায়নে অনিহার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

প্রশ্ন উঠেছে  কে এই জহিরুল?  খোদ শিক্ষামন্ত্রীও তার কিছু করতে পারবেন না এমন দম্ভোক্তি করার আস্পর্ধা তিনি পেলেন কোথায়? কী তার খুঁটির জোর? ক্ষমতাসীন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি সরকার তথা শিক্ষামন্ত্রণালয় নিয়ে যাচ্ছে তাই করে বেড়ানোর লাইসেন্স তিনি পেলেন কোথায় কে তাকে দিয়েছে এ লাইসেন্স? তিনি কি আইনের উর্ধ্বে? সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন মহল কর্তৃক সামান্য অনুুসন্ধানেই থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি পূনরোদ্ধার ও ভবিষ্যতের একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে জহিরুলের সামগ্রিক অপরাধের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার সময়ের দাবী এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil