বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার মৃৎশিল্পীদের গড়া মৃৎপাত্র

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ জুন, ২০২০, ৪.১৪ পিএম
  • ১২১ বার পঠিত

মোঃ আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

একসময় মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর যে চাহিদা ছিল, কালের বিবর্তনে এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। শহুরে জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা গ্রামীণ জনজীবনেও কমে গেছে এই মৃৎশিল্পের ব্যবহার। অথচ একটা সময় মৃৎশিল্পীদের গড়া মৃৎপাত্র দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ ছিল।

আর এখন মানুষের চাহিদা এবং রুচিতে পরিবর্তন আসায় মৃৎসামগ্রীর ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। বর্তমানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবসহ বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত হস্ত ও কুটিরশিল্প মেলায় গ্রামবাংলার চিরচেনা মৃৎপাত্রের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় মৃৎশিল্পীদের। বিশেষ করে বাংলা নতুন বছর বৈশাখ শুরুর সময়টায় মৃৎশিল্পীদের গড়া বিভিন্ন সামগ্রী বেশি বিকিকিনি হয়ে থাকে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এসময় মাটির সামগ্রীগুলোকে রঙ তুলির ছোঁয়ায় বর্ণিল করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হয় মৃৎশিল্পীদের।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্দিপুর গ্রামের মৃৎশিল্পী নিপেন চন্দ্র, হেমন্ত রায়, অনিল কুমার, প্রজাপাড়ার সুনীল কুমার, অমল কুমার জানান, এখন মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকে পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এখনও পহেলা বৈশাখে আয়োজিত মেলাসহ বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠানগুলোতে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল ও খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে।

রংপুর নগরীর পালপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক পরিবার এখন মৃৎশিল্পের ওপর আশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন। তবে তাদের দাবি, বাঙালি সংস্কৃতির গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই ব্যবসার প্রসারসহ মৃৎশিল্পীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক  জানান, মৃৎশিল্পীরা আগ্রহী হয়ে এগিয়ে এলে তাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil