বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

কুলিয়ারচরে পুলিশকে লাঞ্চিত করে লকডাউন ভাঙ্গার অভিযোগ আ.লীগ নেতা কাশেমের বিরুদ্ধে- রুপান্তরবিডি

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০, ৫.০৪ এএম
  • ২০১ বার পঠিত

মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশকে লাঞ্চিতসহ লকডাউন অমান্য করে বাঁশের ব্যারিয়ার (ব্যারিকেড) গুটিয়ে দিয়ে গাড়ি প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ফরিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক কাশেমের বিরুদ্ধে ।

প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস তার ভয়াল রূপ নিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে । দেশজুড়ে এ ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের এক নাইট গার্ড সহ অফিস সংলগ্ন এলাকায় ৬ জনের শরীরে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। কুলিয়ারচরের কেন্দ্র বিন্দু উপজেলা নির্বাহী অফিসের নাইট গার্ড মোঃ মাহতাব উদ্দিন সহ ৬ জন ব্যক্তির নমুনায় কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন কুলিয়ারচরকে লকডাউন ঘোষণা করেন।

জানা যায়, প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলার প্রবেশ পথগুলো বাঁশ দিয়ে ব্যারিয়ার (ব্যারিকেড) তৈয়ারী করে রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। প্রতিটি প্রবেশ পথে থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্যরা দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে নিয়মিত। এরই অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশী করোনা আক্রান্ত এলাকা নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলা থেকে আসা কুলিয়ারচরের প্রবেশ পথ ফরিদপুর ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিয়ার তৈয়ারী করে প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (২০এপ্রিল) বিকালে রাস্তা বন্ধ করে দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন কুলিয়ারচর থানার এএসআই মোঃ আব্দুর রহমান, কনস্টেবল বাবুল, গ্রাম পুলিশ ইদ্রিস, রনচন্দ্র বিশ্বাস, সেচ্চাসেবক লীগের সদস্য সবুজ ও কাউসার।

লকডাউন থাকায় দু দিক থেকে আসা যানবাহ ফিরিয়ে দিতে থাকে পুলিশ। বিকাল ৫টার দিকে রাস্তার দু’দিক থেকে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন রাস্তায় ভীর জমায়। এসময় বেলাবো থেকে মুরগীর খাবার ভর্তি একটি জীপ গাড়ি আসে। অপর দিক থেকে একটি মোটর সাইকেল যোগে স্থানীয় ফরিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক কাশেম দুই জন লোক নিয়ে ব্যারিয়ারের নিকট এসে লকডাউন অমান্য করে জীব গাড়ির ড্রাইভারকে বলে এই গাড়ি টান দে। তখন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এএসআই মোঃ আব্দুর রহমান কাশেমকে বলেন, ভাই কি হয়েছে ? আমার সাথে কথা বলুন, আমার সাথে কথা বলতে সমস্যা থাকলে ওসি স্যারকে রিং দিন। প্রতি উত্তরে কাশেম বলেন ওসির দরকার থাকলে সেই আমাকে রিং দিবে। ওই পুলিশ অফিসার বলেন, এখন ব্যারিকেড তুলে দিলে দুই দিকের যানবাহন চলাচলের সুযোগ পাবে। আগে ওইসব গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করি তার পর জীপ গাডিটি ছাড়া হবে। এ কথা বলার সাথে সাথে কাশেম উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ অফিসারের সাথে খারপ ব্যাবহার করে নিজ ক্ষমতার বলে ব্যারিয়ার (ব্যারিকেড) গুটিয়ে দিয়ে জীপ গাড়ীসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিয়ে সরকারী কাজে বাধাঁ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠে।

সংবাদ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ভৈরব সার্কেলের এএসপি রেজওয়ান দ্বীপু, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই তালুকদার ও ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ফোর্স নিয়ে আজিজুল হক কাশেমকে খুঁজতে ফরিদপুর মাজার এলাকায় যান।

এব্যাপরে ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেহেতু পুলিশের সাথে ঘটনা পুলিশই ভালো বুঝেন কি করবে।

এ ব্যাপারে দ্বায়িত্বরত পুলিশ অফিসার এএসআই মোঃ আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আজিজুল হক কাশেম আমার সাথে এমন অনাকাংখিত ঘঠনা ঘটাবে ভাবতে পারিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা হবে কি না তা উর্ধতন স্যারেরা ভালো জানেন।

এব্যাপরে অভিযুক্ত ফরিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক কাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাস্তার লকডাউন ব্যারিয়ার (ব্যারিকেড) উঠিয়ে দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এএসআই আব্দুর রহমানের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি দাবী করে সাংবাদিকদের বলেন, আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় আমি এএসআই আব্দুর রহমান সাহেবকে বলেছিলাম তারা তারি ব্যারিকেড তুলে দিয়ে মুরগীর খাবারের জীপ গাড়িটি প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য। এতে রাজী না হওয়ায় আমি তারাহুরা করে নিজেই ব্যারিকেড খুলে দিয়ে জীপ গাড়িটি প্রবেশের সুযোগ করে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil