শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

গভীররাতে রুগির ডাকে গরীবের ডাক্তার মন্জ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০, ১১.১৪ এএম
  • ৭১ বার পঠিত

এম.শাহরিয়ার কামাল হাসপাতাল থেকে ফিরেঃ রাত তিনটা হঠাৎ ভারিচিৎকারে হাপিয়ে উঠলাম,মেরুদন্ডের ব্যাথায় প্রান যায় অবস্থা ঘুমহীন চোখে আচ করলাম কিছু একটা হয়েছে, এতোক্ষনে অন্যসব রুগিরাও উঠে গেছে। তরিঘরি নিছে নামতেই দেখি ইমারজেন্সিতে কর্তব্যরত ডাক্তার মোশারেফ স্যার কানে মেশিন লাগিয়ে সত্তর বছর বয়ষী এক রুগির প্রেসার মেপে দেখছেন,অঃপর রুগির স্বজনদের সাফ বলে দিলেন উনি প্রায় ঘন্টা খানেক আগেই মারা গেছেন

। বলতেই স্বজনদের গগনবিদোরিত আহাজারি আর কান্নার মুর্চনায় অজান্তে আবেগে আমার দু’চোখেও অশ্রুশিক্ত হলো।পিতা নিশ্চিত মৃত নাছোরবান্দা সন্তানসম্ভবা মেয়ে মানতেই নারাজ। ফোন করলেন গরীবের ডাক্তার মন্জু স্যারকে বললেন ঘটনার সব আদ্যোপান্ত স্যার শান্ত মনেই শুনলেন সব, তখন রাত তিনটা বেজে বিশ মিনিট,হাসপাতাল থেকে কোয়াটার মাইল দুরেই স্যারের বসবাস। উপস্থিত সবাই অভাক হয়ে গেলাম এতোরাতে স্বজনদের একটামাত্র ফোনকলে স্যার নিজেই হুন্ডা ড্রাইভকরে হাসপাতালে চলে আসলেন। বেডে পরে থাকা নিথর দেহটায় সাইক্লোজিক্যাল ট্রিটমেন্ট অভিগ্যতার অনুশন্ধান শেষে বললেন আর নেই! এতোটা নতজানু কন্ঠে শান্তনা দিলেন স্বজনদের সাথে সাথে স্যার নিজেও অশ্রুসিক্ত হলেন।দর্শক সারিতে দারিয়ে ভাবলাম এতোবর নামিদামি একজন ডাক্তার রুগির জন্য এতোটা লীন হতে পারে!সারাদিন হাসপাতালে আগত শতশত রুগির সেবা দিয়ে আবার প্রাইভেট একটি ক্লীনিকে সামান্য ভিজিটে রুগি দেখারপর স্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত,অন্যদিকে গভীর রাতে তন্দ্রায়াচ্ছন্ন অবস্থায় ফোন রিসিভ করা- আবার মুহুর্তেই ছুটে আসা ঠিক তখনো রুগিকে নিয়েই বেস্ত থাকা। ভাবলাম স্যার শুধু ডাক্তারই নন সত্যিকারার্থে মানবতাকে খুজে বেরানো একজন আদর্শিক সেবার ফেরিওয়ালা।
বেস্ততার ফাঁকে স্যারের চোখে চোখ পরলো আমার, সামান্য হেসেই বলল কি খবর সাংবাদিক সাহেব?আপনার শারীরিক কি অবস্থা আপনার মায়ের শারীরিক উন্নতি হয়েছেকিনা?আমি শ্রদ্ধার সহিত উত্তর করলাম জ্বী স্যার মোটামুটি তবে মায়ের শরীরটা ভালোনা।
শুনতেই স্যার বললেন চলেন আসছি যেহেতু আপনার মাকে একটু দেখি।স্যার এতোক্ষনে দোতলায় ইউচি রুমে আমার মায়ের পাশে সাথে নৈশকালিন দায়ীত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স(এস এস এন) নার্সসহ স্টাফ গাজিভাই আছেন।স্যার আমার মাকে দেখলেন মাথায় হাত ভুলিয়ে বললেন মা আমি ওষুদ লিখে দিচ্ছি আপনি ইনশাল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।স্যার দারিয়ে থেকে নার্সদের দিয়ে স্যালাইন পুষ করিয়ে দিলেন । আমার মাকে মা বলে সম্মোদন দেখালো স্যার! আমি স্যারের আন্তরিকতা দেখে খুশিতে কেঁদেই ফেললাম।স্যার কারন জিঙ্গেস করতেই আমি নিজেকে সমর্পিত করলাম স্যারের নিকট, তখন স্যার নিজের রুমাল দিয়ে আমার চোখের অশ্রুগুলো মুচে দিয়ে বলল, এটা আমার দায়ীত্ব আমি ডাক্তারী করি মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যই,সুস্থ হয়ে রুগিরা আমাকে প্রানভরে দোয়া করবে এতেই আমার কষ্ট সফল হবে এ স্বপ্ন নিয়েই আমি এ পেশায় আছি। তখন বুঝলাম মানুষ স্যারকে কেন গরীবের ডাক্তার বলে ডাকেন।
এতোক্ষনে ফজরের আজান হচ্ছিল স্যার বাসায় ফিরে গেলেন।
গত পহেলা সেপ্টেম্বর হতে মেরুদন্ডের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছি আমি, পরে চার সেপ্টেম্বর রক্তশুন্যতায় মুমুর্ষ অবস্থায় আমার মাও ভর্তি হয়।মা আর আমি পাশাপাশি বেডে চিকিৎসা নিয়েছি আর ডাক্তার মন্জু স্যারকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, দেখেছি স্যার রুগিদের প্রতি কতোটা আন্তরিক কতোটা ধৈর্যশীল। স্টাফরা যখন দায়ীত্বে অমনোযোগি তখন কিভাবে ধমকিয়েছেন তাদের,হাসপাতালের ফ্লোর-বেড পরিস্কার রাখতে নিয়োমিত ষ্টাফদের সংগে স্যার নিজেও কাজ করছেন। তবে স্যারের এমন একটি ভিডিও ক্লীপ সোসাল মিডিয়াতে এর আগেও ভাইরাল হতে দেখেছি।

০৩ [এখান থেকেও কিছু পয়েন্ট নেয়া যেতে পারে]

গভীররাতে রুগির ডাকে গরীবের ডাক্তার মন্জু
এম.শাহরিয়ার কামাল হাসপাতাল থেকে ফিরেঃ রাত তিনটা হঠাৎ ভারিচিৎকারে হাপিয়ে উঠলাম,মেরুদন্ডের ব্যাথায় প্রান যায় অবস্থা ঘুমহীন চোখে আচ করলাম কিছু একটা হয়েছে, এতোক্ষনে অন্যসব রুগিরাও উঠে গেছে। তরিঘরি নিছে নামতেই দেখি ইমারজেন্সিতে কর্তব্যরত ডাক্তার মোশারেফ স্যার কানে মেশিন লাগিয়ে সত্তর বছর বয়ষী এক রুগির প্রেসার মেপে দেখছেন,অঃপর রুগির স্বজনদের সাফ বলে দিলেন উনি প্রায় ঘন্টা খানেক আগেই মারা গেছেন।

। বলতেই স্বজনদের গগনবিদোরিত আহাজারি আর কান্নার মুর্চনায় অজান্তে আবেগে আমার দু’চোখেও অশ্রুশিক্ত হলো।পিতা নিশ্চিত মৃত নাছোরবান্দা সন্তানসম্ভবা মেয়ে মানতেই নারাজ। ফোন করলেন গরীবের ডাক্তার মন্জুকে বললেন ঘটনার সব আদ্যোপান্ত স্যার শান্ত মনেই শুনলেন সব, তখন রাত তিনটা বেজে বিশ মিনিট,হাসপাতাল থেকে কোয়াটার মাইল দুরেই স্যারের বসবাস। উপস্থিত সবাই অভাক হয়ে গেলাম এতোরাতে স্বজনদের একটামাত্র ফোনকলে স্যার নিজেই হুন্ডা ড্রাইভকরে হাসপাতালে চলে আসলেন। বেডে পরে থাকা নিথর দেহটার সাইক্লোজিক্যাল ট্রিটমেন্ট অভিগ্যতার অনুশন্ধান শেষে বললেন আর নেই! এতোটা নতজানু কন্ঠে শান্তনা দিলেন স্বজনদের সাথে সাথে স্যার নিজেও অশ্রুসিক্ত হলেন।

দর্শক সারিতে দারিয়ে ভাবলাম এতোবর নামিদামি একজন ডাক্তার রুগির জন্য এতোটা লীন হতে পারে!সারাদিন হাসপাতালে আগত শতশত রুগির সেবা দিয়ে আবার প্রাইভেট একটি ক্লীনিকে সামান্য ভিজিটে রুগি দেখারপর স্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত,অন্যদিকে গভীর রাতে তন্দ্রায়াচ্ছন্ন অবস্থায় ফোন রিসিভ করা- আবার মুহুর্তেই ছুটে আসা ঠিক তখনো রুগিকে নিয়েই বেস্ত থাকা। ভাবলাম স্যার শুধু ডাক্তারই নন সত্যিকারার্থে মানবতাকে খুজে বেরানো একজন আদর্শিক সেবার ফেরিওয়ালা।

বেস্ততার ফাঁকে স্যারের চোখে চোখ পরলো আমার, সামান্য হেসেই বলল কি খবর সাংবাদিক সাহেব?আপনার শারীরিক কি অবস্থা আপনার মায়ের শারীরিক উন্নতি হয়েছেকিনা?আমি শ্রদ্ধার সহিত উত্তর করলাম জ্বী স্যার মোটামুটি তবে মায়ের শরীরটা ভালোনা।
শুনতেই স্যার বললেন চলেন আসছি যেহেতু আপনার মাকে একটু দেখি।স্যার এতোক্ষনে দোতলায় ইউচি রুমে আমার মায়ের পাশে সাথে নৈশকালিন দায়ীত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স(এস এস এন) নার্সসহ স্টাফ গাজিভাই আছেন।স্যার আমার মাকে দেখলেন মাথায় হাত ভুলিয়ে বললেন মা আমি ওষুদ লিখে দিচ্ছি আপনি ইনশাল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।স্যার দারিয়ে থেকে নার্সদের দিয়ে স্যালাইন পুষ করিয়ে দিলেন ।

আমার মাকে মা বলে সম্মোদন দেখালো স্যার! আমি স্যারের আন্তরিকতা দেখে খুশিতে কেঁদেই ফেললাম।স্যার কারন জিঙ্গেস করতেই আমি নিজেকে সমর্পিত করলাম স্যারের নিকট, তখন স্যার নিজের রুমাল দিয়ে আমার চোখের অশ্রুগুলো মুচে দিয়ে বলল, এটা আমার দায়ীত্ব আমি ডাক্তারি করি মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যই,সুস্থ হয়ে রুগিরা আমাকে প্রানভরে দোয়া করবে এতেই আমার কষ্ট সফল হবে এ স্বপ্ন নিয়েই আমি এ পেশায় আছি। তখন বুঝলাম মানুষ স্যারকে কেন গরীবের ডাক্তার বলে ডাকেন।

এতোক্ষনে ফজরের আজান হচ্ছিল স্যার বাসায় ফিরে গেলেন।
গত পহেলা সেপ্টেম্বর হতে মেরুদন্ডের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছি আমি, পরে চার সেপ্টেম্বর রক্তশুন্যতায় মুমুর্ষ অবস্থায় আমার মাও ভর্তি হয়।মা আর আমি পাশাপাশি বেডে চিকিৎসা নিয়েছি আর ডাক্তার মন্জু স্যারকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, দেখেছি স্যার রুগিদের প্রতি কতোটা আন্তরিক কতোটা ধৈর্যশীল। স্টাফরা যখন দায়ীত্বে অমনোযোগি তখন কিভাবে ধমকিয়েছেন তাদের,হাসপাতালের ফ্লোর-বেড পরিস্কার রাখতে নিয়োমিত ষ্টাফদের সংগে স্যার নিজেও কাজ করছেন। তবে স্যারের এমন একটি ভিডিও ক্লীপ সোসাল মিডিয়াতে এর আগেও ভাইরাল হতে দেখেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil