মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মধুপুর পূজা উদযাপন পরিষদের ও সকল সনাতনির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ভৈরবে বিভ্রান্তিমুকল খবর প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বড়লেখায় খেলাফত মজলিসের তরবিয়তী মজলিস অনুষ্ঠিত বড়লেখায় মাওলানা জাফরী’র ইন্তেকাল মৌলভীবাজার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৫৮৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্রীমঙ্গল থেকে গরু চোর আটক: ৪ গরু উদ্ধার কুলাউড়ায় ১৭৮৫ পিস ইয়াবাসহ, র‍্যাবের হাতে আটক (১) জন ভৈরবে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৪ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম(এমপি) চিরদিন বেঁচে থাকবে জনসাধারনের মাঝে-চরফ্যাশন বিএমএসএফ এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ্য টাকা নিয়ে উধাও সিলেটের শাহজাহান প্রতারক

চার সমস্যায় দিশেহারা মেঘনা পাড়ের মানুষ : অস্থিত্ব সংকটের পথে গোটা কমলনগরের জনপদ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০, ৭.৪৯ পিএম
  • ১৬৭ বার পঠিত

এম.শাহরিয়ার কামাল:

ভাঙ্গনের মুখে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনবাস পুরনো কথা,একদিকে প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস আতঙ্ক অন্যদিকে রাক্ষুসে মেঘনার অভ্যাহত ভাঙনখেলা।
এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান,সম্প্রতি সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক বেঁড়ে গিয়ে মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি-কমলনগর প্লাবিত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙন কবলিতরা।

মেঘনা পাড়ের অসংখ্য পরিবার ভিটে-মাটি হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু আগেই, এখনো ভাঙনাতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তি মানুষগুলোর।
অকাল্পনিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবারো অস্বাভাবিক জোয়ারে লন্ডবন্ড করে দিয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামীন রাস্তাঘাট, বিধ্বস্থ হয়েছে অসংখ্য পোল কালভার্ট। ভুক্তভোগী লক্ষাধিক পরিবারের রান্না ঘরের চুলো পানিবন্দি থাকায় অনাহার আর অর্ধাহারে বানবাসি মানুষগুলোর দুঃখের সীমা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে প্রায় দু’সপ্তাহের অব্যাহত বৃষ্টির বর্ষন ও ভয়াল ভাঙ্গনের মূখে মেঘনা পাড়ের ১৭ কিঃমিঃ এলাকা জুরে চলছে ভাঙ্গনাতঙ্ক, জোয়ারে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০টির অধিক গ্রামের
বসতবাড়ি , রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ,মাদ্রাসা সহ অসংখ্য সরকারী প্রতিষ্ঠান।
পানির নিচে তলিয়ে গেছে দু’উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল। মরে গেছে অসংখ্য গৃহস্থালি হাস-মুরগী ও পোল্টি খামারের মুরগী। ব্যক্তিগত পুকুর ও বানিজ্যিক উপায়ে চাষকৃত ঘের থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে পথে বসেছে মৎস ব্যবসায়ীরা।
গবাধিপশুর গো-খাদ্যাভাবে কৃষকরা পড়েছে মহা-সংকটে।

তবে মেঘনা নদীর তীরবর্তি
বেড়ীবাঁধ না থাকাকে দায়ী করেছেন বানবাসী ভূক্তভোগীরা। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় দ্রুত বেড়ীবাঁধ দেয়ার দাবি জানান তারা।

নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আহবায়ক ও কমলনগর প্রেসক্লাব সভাপতি এম,এ মজিদ নেহাল ও সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহালদের
মতে
এখনি বাধের উদ্যোগ না নিলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে পুরো কমলনগর ও রামগতি উপজেলা।

নদী পাড়ে জীবনবাস মানেই বছরের পর বছর বন্যা-ঘুর্ণিঝড় আর বৈরী পরিবেশের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা।

মাটির অনেক কাছাকাছি মেঘনা পাড়ের প্রতিটা মেহনতী মানুষের জীবন চিত্র অনেকটা এমনি।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলিয়ে নিজেরা খেয়ে জীবন ধারণ করে, পুরোদেশবাসীকে খাওয়ায়। কাজেই এই মাটিই জীবন এই মাটিই তাদের সব।যুগ যুগ ধরে চলে আসা মেঘনাপাড়ের ইতিহাস এবার ভয়ংকর রূপ নিয়ে গোটা রামগতি- কমলনগরের জনপদকেই তার অস্তিত্ত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে। পায়ের তলার মাটিটুকু সরে গেলে আর থাকে কি!

সারাদেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস জনিত স্থবিরতার ঢেউ প্রাত্যাহিক জীবনের কষ্টের বোঝার উপর মহাকষ্ট হিসেবে চেপে বসেছে মেঘনা পাড়ের বাণভাসি মানুষের জীবনের উপরেও। থমকে যাওয়া জীবনের উপায় খুঁজতে যখন সবাই প্রাণান্ত চেষ্টায় রত। ঠিক তখনই মরার উপর খাড়াঁর ঘা হিসেবে সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় ঘুর্ণিঝড় আম্ফান। করোনা আর আম্ফানের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বয়ং আজরাইলের হুংকারে বাড়তে থাকে সর্বনাশা মেঘনার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। সেই মেঘনাকে ঠেকানোর উপায় বাঁধ যখন বির্তকিত পন্থায় বালির বাঁধ হয়ে দাড়ায় তখন আর দু:খের সীমা পরিসীমা থাকেনা।
বর্তমান কমলনগরের তথা মেঘনাবাসীর অদৃষ্টও যেন হয়েছে তাই। ফলে মেঘনার প্রতিটি থাবায় বিলীন হচ্ছে স্থলবাধেঁর একেক অংশ, জীবনের এক একটা পাঁজরের হাড় যেন খুলে নিয়ে আস্ত গিলে খাচ্ছে ক্ষুধার্ত মেঘনা। এমনতো হওয়ার কথা ছিলনা। বাঁধ দিয়ে অবলীলায় ঠেকিয়ে দেয়ার কথা ইয়াজুজ মাজুজের মতো দৈত্য মেঘনাকে।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-বৃষ্টির বর্ষন-জোয়ারের পানিতে বন্দিদশা-করোনা আর অদৃষ্ট এই চারের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ যেন সাক্ষাত কাল কেয়ামত।
করোনা, আম্ফান, প্লাবিত জোয়ারের পানি আর নিষ্ঠুর মেঘনার ভাঙ্গন শতবছরের স্থলভূমি প্রিয় কমলনগরকেই আস্ত গিলে খাওয়ার মরণ উৎসবে মেতে উঠেছে।

কয়েক দফা ভাঙনের শিকার এক সময়ের প্রভাবশালীরাও এখন রাস্তার পাশে ঝুঁপড়িওয়ালা ঘরে বসবাস করছে। এখানকার এমন কিছু পরিবার আছে যারা ভাঙন মুহুর্তে ডেরা বাসাটুকুন অন্যত্র সরিয়ে নিবে এমন অর্থকড়িটুকুও তাদের নেই। ফলে ঘরবাড়ি বিলিন হওয়ার সাথে সাথে জীবনের চাকাটাও বিলিন হয়ে গেছে। সংসার হারা দেউলিয়াত্ব্য হয়ে যাযাবর আর উদবাস্তু, সর্বহারার মতো শুরু হবে বসবাস!

একদিকে করোনার মহাবিপদ মাথায় অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে বন্দিদশা দু’ইয়ে

মিলে কঠিন নাভিশ্বাসে অতিষ্ট মেঘনাপাড়ের জনজীবন। বিপন্ন মানবতা ডুকরে কাঁদছে মানুষ এভাবে আর কতো দিন?

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil