বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

তিন সমস্যায় দিশেহারা মেঘনা পাড়ের মানুষ 

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ১০.০০ পিএম
  • ৯৬৭ বার পঠিত

শাহরিয়ার কামাল: জীবন মানেই বছরের পর বছর বন্যা-ঘুর্ণিঝড় আর বৈরী পরিবেশের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা।মাটির অনেক কাছাকাছি  মেঘনা পাড়ের প্রতিটা মেহনতী মানুষের জীবন চিত্র অনেকটা এমনি।মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলিয়ে নিজেরা খেয়ে জীবন ধারণ করে, পুরোদেশবাসীকে খাওয়ায়। কাজেই এই মাটিই জীবন এই মাটিই তাদের সব।যুগ যুগ ধরে চলে আসা মেঘনাপাড়ের ইতিহাস এবার ভয়ংকর রূপ নিয়ে গোটা কমলনগরের জনপদকেই তার অস্তিত্ত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে। পায়ের তলার মাটিটুকু সরে গেলে আর থাকে কি!

সারাদেশ জুড়ে করোনা ভাইরাস জনিত স্থবিরতার ঢেউ প্রাত্যাহিক জীবনের কষ্টের বোঝার উপর মহাকষ্ট হিসেবে চেপে বসে মেঘনা পাড়ের মানুষের জীবনের উপরেও। থমকে যাওয়া জীবনের উপায় খুঁজতে যখন সবাই প্রাণান্ত চেষ্টায় রত। ঠিক  তখনই মরার উপর খাড়াঁর ঘা হিসেবে সব লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় ঘুর্ণিঝড় আম্ফান। করোনা  আর আম্ফানের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বয়ং আজরাইলের হুংকারে বাড়তে থাকে সর্বনাশা মেঘনার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। সেই মেঘনাকে ঠেকানোর উপায় বাঁধ যখন বির্তকিত পন্থায় বালির বাঁধ হয়ে দাড়ায় তখন আর দু:খের সীমা পরিসীমা থাকেনা। বর্তমান কমলনগরের তথা মেঘনাবাসীর অদৃষ্টও যেন হয়েছে তাই। ফলে মেঘনার প্রতিটি থাবায় বিলীন হচ্ছে স্থলবাধেঁর একেক অংশ, জীবনের এক একটা পাঁজরের হাড় যেন খুলে নিয়ে গিলে খাচ্ছে ক্ষুধার্ত মেঘনা। এমনতো হওয়ার কথা ছিলনা। বাঁধ দিয়ে অবলীলায় ঠেকিয়ে দেয়ার কথা ইয়াজুজ মাজুজের মতো দৈত্য মেঘনাকে।অনিয়ম-অনাচার আর অদৃষ্ট এই তিনের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ যেন সাক্ষাত কাল কেয়ামত। করোনা, আম্ফান আর নিষ্ঠুর মেঘনার ভাঙ্গন শতবছরের স্থলভূমি প্রিয় কমলনগরকেই আস্ত গিলে খাওয়ার মরণ উৎসবে মেতে উঠেছে।

কয়েক দফা ভাঙনের শিকার এক সময়ের প্রভাবশালীরাও এখন রাস্তার পাশে ঝুঁপড়িওয়ালা ঘরে বসবাস করছে। এখানকার এমন কিছু পরিবার আছে যারা ভাঙন মুহুর্তে ডেরা বাসাটুকুন অন্যত্র সরিয়ে নিবে এমন অর্থকড়িটুকুও তাদের নেই। ফলে ঘরবাড়ি বিলিন হওয়ার সাথে সাথে জীবনের চাকাটাও বিলিন হয়ে যায়। হয়ে যায় সংসার হারা দেউলিয়া।  আবারো উদবাস্তু, সর্বহারা  যাযাবরের মতো শুরু হবে বসবাস।

উল্লেখ করা যেতে পারে,করোনা ভাইরাস,ঘূর্ণিঝড় আম্ফান,মেঘনার চলমান ভাঙ্গা।তারপর আবার কোস্টগার্ডের বিরামহীন অভিযান।
গেল আম্ফান পূর্ববর্তি টানা বৃষ্টিতে এ অঞ্চলের বিশেষ আবাদকৃত সয়াবিনও মরিচ পানিবন্দি, তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও অধিক জোয়ারের পানিতে নদীপাড় ভেঙ্গেছে অধিক।সব মিলিয়ে আত্ব্যা কাপিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা এই নদীভাঙ্গা।
মেঘনাপাড়ের কমলনগরের মতির হাট থেকে রামগতি পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার এলাকা সিসিব্লক দিয়ে বাধ প্রকল্পটি ৩১শ কোটি টাকায় উন্নতি হয়ে একনেক সভায় পাস হয়েছে বহু আগেই। এতে রামগতিতে সাড়ে,চার আর কমলনগর এক কিলোমিটার এলাকা বাধের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। কিন্তুু কমলনগরের যৎসামান্য মানহীন এক কিলোমিটার কাজে কমপক্ষে ছয়বার ধস নামে, বিষয়টি নিয়ে “টেকসই উন্নয়নে রামগতি উপেক্ষিত কমলনগর”শিরোনামে পত্রিকায় বেশ আলোচনাও উঠেছিল।তার পর করোনা ডামাডোলে সব যেন ভোজবাজীর মতো হাওয়া।
তবে এবারের বর্ষা শুরুর আগেই নদী যে ভাবে ভাঙন তান্ডবে মেতে উঠেছে এতে করে এখনই বাঁধের উদ্যোগ না নেয়া হলে অচিরেই মানচিত্র হতে কমলনগরটি হারিয়ে যাবে।এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক মহল।
ভাঙ্গন কবলিত মানুষগুলোর আহাজারি আর ঘরবাড়ি হারানোর ইতিহাস নতুন নয় বেশ পুরনো। গেল বছরগুলোতে মেঘনাপাড়ের অভাবী মানুষগুলো চিংড়ি রেণুপোনা(বাগদা) আহরণ করে কিছুটা অভাব মোচন করতো,এবার একদিকে করোনা আক্রান্তের ভয় অন্যদিকে কোস্টগার্ডের অভিযান- এ দু’য়ে মিলে কঠিন নাভিশ্বাসে অতিষ্ট মেঘনাপাড়ের জনজীবন। বিপন্ন মানবতা ডুকরে কাঁদছে মানুষ এভাবে আর কতো দিন?

লেখক: সাংবাদিক কলামিস্ট

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil