মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে ষড়যন্ত্র :  রোজগার বন্ধের আশংকায় ২ হাজার শ্রমিক

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ৭.১৩ পিএম
  • ৮৬ বার পঠিত

আসাদুজ্জামান বাদল (নরসিংদী) প্রতিনিধি : নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে একটি চিহ্নিত মহলের নানান ষড়যন্ত্রে ২ হাজার শ্রমজীবি রোজগার বন্ধের আশংকায় পড়েছে মর্মে গুরুতরো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক মহলের অভিমত হলো,ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাতের ছোঁয়ায় একদিকে দেশের স্বনামধন্য সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করা এবং অপরদিকে এর সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন জীবিকার অবলম্বন ধ্বংস করা । অন্নপূর্ণা অয়েল মিলে এর প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করছে।
প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে গেলে এ সকল খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভাগ্য নেমে আসবে অমাবস্যার কালো থাবা। তারা বর্তমানে কর্মস্থানের ঝুঁকিতে দিন গুনছে। উপরোক্ত বক্তব্য গুলো অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের মালিক সুধীর চন্দ্র সাহা রূপান্তর বিডিসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ।

তিনি আরো জানান,  আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মস্থান করে দিয়েছি এবং সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয়কর দিয়ে আসছি। এগুলোর কথা চিন্তা না করে আমাদের উৎপাদিত পণ্য সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈলের মানোন্নয়নের বিষয়ে বিএসটিআই কর্তৃক এবং কিছু মিডিয়ার ত্রুটিপূর্ণ আচরণ আমাকে মর্মাহত করেছে।দেশের করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগের মুহূর্তে তারা প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমাদের উৎপাদিত পণ্যের মানের বিষয়ে বিএসটিআই মানের বলে যে অপযুক্তি এনেছেন তা একান্তই প্রাকৃতিক। এখানে আমাদের কোনো প্রকার ত্রুটি নেই। বিএসটিআই যে টেস্ট রিপোর্টের মাধ্যমে সরিষার তৈলে ডোলারেবল ,ইউরিক, এসিডের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন শতকরা ৪৫% । কিন্তু সুরেশ তৈলে ইরোসিক এসিড পাওয়া গেছে শতকরা ৪৯.৫% । যাহা ৪.৫ % বেশি। কিন্তু এই বেশি টা হচ্ছে প্রাকৃতিক। এখানে মানুষের কোন হাত নেই। দেশে এমন কোন প্রযুক্তি ও নেই যে, যার মাধ্যমে সরিষার তৈল থেকে ইরোসিক এসিড এর পরিমাণ কমানো বাড়ানো যায়। এখানে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-বিএসটিআই অথবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা অথবা কোন ব্যক্তি আমাদেরকে এ ধরনের প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা সরবরাহ করুক । তখন যদি আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার না করি সেটাও কি আমাদের দোষ বা গাফিলতি। তখন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেটা হবে যুক্তিযুক্ত এবং আইনসম্মত। তা নাহলে এটা হবে বেআইনি।

তিনি দু:খ প্রকাশ করে আরো বলেন, বিএসটিআই এর নিয়ম হচ্ছে কোন পণ্যের মান তাদের নির্ধারিত মান অনুযায়ী না হলে তারা প্রথমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবে।এক্ষেত্রে তারা এ কাজটি না করে পণ্যগুলো মানসম্পন্ন নয় বলে উল্লেখ করে বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়াতে দিয়ে প্রচার করেছে।আমি বরাবর মিডিয়াকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এক ধরণের মিডিয়া কোন কিছুর প্রতি তোয়াক্কা না করে এ  অপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।তাদের দায়িত্ব ছিল উৎপাদিত পণ্য কি ধরনের অনিয়ম হয়েছে তার খোঁজখবর নিয়ে সেগুলো উল্লেখ করে বিষয়টি জনগণের নিকট তুলে ধরা।তা না করে তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে প্রচার করেছে এতে করে জনসাধারণের নিকট পণ্যগুলোর ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর খবর পৌঁছেছে।এখানে বিএসটিআই এবং মিডিয়াগুলো তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি বলে তিনি মনে করেন।ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এছাড়া দেশের ৪৩ টি প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর রুজি রোজগার বন্ধ হবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সুধীর সাহা আরো জানান ,দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর প্রকল্প এবং চ্যানেল তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে ব্যক্তিগতভাবে তিনি তার পরিবারের বিষয় দিয়ে ২০১৮ সালে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করেছে। এবারও চিহ্নিত দুটি মিডিয়া আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। গত ১২ মে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রথম শ্রেণীর পত্রিকার শেষের পাতায় এবং ১১ ও ১২ মে তারিখে একটি চ্যানেলে শুধুমাত্র সুরেশ খাঁটি তৈলের ব্রান্ডকে লিড করে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ বিএসটিআই-এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও ৪২ টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ ছিল । তারা ৪২ টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একমাত্র সুরেশ খাঁটি সরিষার তৈল এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে করে পরিষ্কার বোঝা যায় যে ,তারা ব্যক্তিগতভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোমর বেঁধে আমার বিরুদ্ধে প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আদালতে মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিচারাধীন রয়েছে।এখানে আমার ভাষ্য হচ্ছে করোনা ভাইরাসের মত এই মহামারীর সময়ে যেখানে ইউরোপ আমেরিকার মত দেশে ও লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছে। সেখানে আমাদের মত দরিদ্র দেশে ক্রুটিপূর্ন অভাযোগের মাধ্যমে বেকার করে দেয়া অসংখ্য মানুষের প্রতি বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একটি ব্রান্ড তৈরি করা যে কত কঠিন এবং কত কস্ট তা একমাএ তিনিই যানেন,যিনি এই ব্রান্ড তৈরি করেছেন।আমরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে এই সুরেশ ব্রান্ড তৈরি করেছি।তবে একটি লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে গত ১২/৫/২০২০ ইং তারিখে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আমাদের কে একটি চিঠি দিয়েছে। অথচ ১১/৫/২০২০ ইং তারিখে বিষটি মিডিয়ায় দিয়ে প্রচার করেছে।এটা সম্পুর্ন আইন পরিপন্হি বলে আমি মনে করি।

বিশ্লেষক মহল মনে করছেন যে প্রতিস্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সাথে দির্ঘ বছর ধরে বাংলা জয় করে বিশ্ব জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে – ঠিক সেই মুহুর্তে এবং দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে একটি বিশেষ মহল এ সুনামধন্য সুরেশ সরিষার তৈল নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের খেলায় নেমেছে,তা মোটেও ঠিক নয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil