বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৫৮৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্রীমঙ্গল থেকে গরু চোর আটক: ৪ গরু উদ্ধার কুলাউড়ায় ১৭৮৫ পিস ইয়াবাসহ, র‍্যাবের হাতে আটক (১) জন ভৈরবে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৪ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম(এমপি) চিরদিন বেঁচে থাকবে জনসাধারনের মাঝে-চরফ্যাশন বিএমএসএফ এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ্য টাকা নিয়ে উধাও সিলেটের শাহজাহান প্রতারক গরিব অসহায় মানুষ আমার বন্ধু  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াছির উদ্দিন আহমেদ (কাওছার) ভৈরবে অন্তসত্বা কল্পনা নামে (বুদ্ধি প্রতিবন্ধি) কিশোরীর রহস্য জনক মৃত্যু জুড়ীতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক স্থাপনে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করতে পারবে না সাফারি পার্ক হবেই হবে পরিবেশমন্ত্রী বড়লেখায় আওয়ামীলীগের নতুন অফিস উদ্ভোধন করলেন পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন

পাপুলের পাহাড় সমান টাকা ও এমপি কিনে নেয়া

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০, ৬.২০ পিএম
  • ১৩৩ বার পঠিত

 

নজরুল ইসলাম জয় :

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় (২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করেই আবির্ভাব হয় প্রবাসী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের। সেদিন বিকেলে রায়পুরের স্থানিয় ফ্রেন্ডস চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। ওই সময় পাপুল কুয়েত ভিত্তিক ব্যবসায়ী গ্রুপ “মারাফি কাওয়াতিয়া” গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হওয়ার গল্প শুনান। শুধু তাই নয় জেলার উন্নয়নে তিনি কয়েক শ’ কোটি টাকা দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সাংবাদিকদের জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা করে তাৎক্ষণিক একটি কল্যাণ ট্রাস্ট করার সিদ্ধান্ত দেন এ প্রবাসী। তবে কিছু সংবাদকর্মী তাঁর হঠাৎ আবির্ভাবে সন্দেহ পোষন করে রাজনীতিতে আসবেন কিনা প্রশ্ন করলে, উত্তরে দাম্ভিকতার সাথে জানিয়ে দেন রাজনীতি করবে না তিনি। জেলাবাসীর কাছে কিছু চাওয়ার নেই, তিনি দিতে এসেছেন। নিজের পাহাড় সমান অর্থ সম্পদের বর্ণনা দিয়ে কুয়েতের প্রিন্সখ্যাত বলে নিজের ঢোল নিজে পেটান মিস্টার পাপুল।
ওই মতবিনিময় সভায় আমি নিজে উপস্থিত থাকার কারণে তখনই সন্দেহ হয়েছিল মিস্টার পাপুলের অন্যকোন উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও মাঝে মাঝে পাপুলে স্ত্রী ও মেয়ের মুখে শুনা যেত “সাগরের পানি শুকিয়ে যাবে কিন্তু মিস্টার পাপুলের টাকা শেষ হবে না”।
যাইহোক সাংবাদিকদের সাথে ওই মতবিনিময় সভার পর থেকেই প্রবাসী পাপুল বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকদের মাঝে দু’হাতে টাকা উড়াতে থাকেন। এতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ও রায়পুর উপজেলার কিছু মানুষের কাছে বিশিষ্ট দানবীর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল।
বছর ঘুরতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসে। শুরু হয় মিস্টার পাপুলের তেলেসমাতি (২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর) রায়পুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের জন্য ৫ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরো একশত কোটি টাকা রায়পুরের উন্নয়নে দেবার ঘোষণা দেন পাপুল। এসময় তিনি রায়পুরে নেতা হতে আসেনি জানিয়ে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে আগামী দিনের নৌকা প্রতিক উপহার দেন, তবে সেটাকে আমি আমার দায়িত্ব মনে করবো। ওইসভায় অতীতে আওয়ামীলীগ ও অংগসংগঠনের উন্নয়নে নিজের বিভিন্ন অনুদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এরপর থেকেই রাজনীতিতে পা রাখা মিথ্যাবাদী পাপুলের মুখোশ উন্মোচন হতে থাকে। আওয়ামী লীগের স্থানিয় নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় পাপুলকে নিয়ে ধন্ধ। কয়েকজন মিস্টার পাপুলের টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়লেও বেশিরভাগ নেতাকর্মী ছিল উড়ে এসে জুড়ে বসা পাপুলে বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মিস্টার পাপুল। এদিক-সেদিক ছুটছুটি করে প্রথম সারির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন কিনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কোন কূল না পেয়ে এবার নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার মাধ্যমে রায়পুর আসনে মনোনয়ন পান সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ নোমান। শুরু হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলের সাথে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যদিও পাপুলে পক্ষে আপেল প্রতীকে কোন প্রচার-প্রচারণা ছিল না। কিন্ত আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী ছিল ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয়। হঠাৎ সামাজিক মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। সে সময় বহু আলোচিত ছিল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাপুল ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। যদিও নোমান আজ পর্যন্ত টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল।
কিছুদিন পরেই কাজী শহীদ ইসলাম পাপলু’র স্ত্রী কাজী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে নিজ স্ত্রীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এমপি কিনে দিয়েছেন মিস্টার পাপুল। শুধু তাই নয় মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে রায়পুরের পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করার স্বপ্নও দেখেছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলার সর্বোচ্চ সমালোচিত এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল।
লেখক : নজরুল ইসলাম জয়
সম্পাদক
শীর্ষ সংবাদ ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil