বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ন

পার্বতীপুরে ইট ভাটার ধোঁয়ায় জ্বলছে ফসল পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ৬.২৯ পিএম
  • ১৬০ বার পঠিত
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ইট ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মৌসুমী ফসল আম, লিচু, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইট তৈরীর জন্য এসব ভাটায় প্রতিনিয়তই ট্রাক যোগে জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নিয়ে যাওয়ায় জমির উর্বরা শক্তি কমে গেছে। এতে এসব এলাকায় ফসলের উৎপদনও কমে গেছে। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন চন্ডিপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তাদের মধ্যে চন্ডিপুর এলাকার মৃত সায়েজ উদ্দীনের পুত্র এনাজ উদ্দীন অন্যতম।
জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মানস কান্তি রায়, উধির চন্দ্র রায়, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল হাকিমসহ স্থানীরা ক্ষতিগ্রস্তদের গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেন। ওই অভিযোগের কপি দেয়া হয়েছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর, উপজেলা প্রশাসনসহ অন্যদের। এতে উলে­খ করা হয়, চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের অবস্থিত মোকারম সুপার ব্রিক্স। ভাটার মালিক মোকারম হোসেন নিয়ম বহির্ভূতভাবে আগুন নিভানোর ফলে এলাকায় বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভাটার আস পাশের ধান, আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের অভিযোগ এসব ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে এলাকার পরিবেশ দূষন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা তাদের ফসল পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তারা আশংকা করছেন এভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলতে থাকলে আগামীতে এ এলাকার কোন জমিতে আম বাগান, লিচু বাগান ও ধান ক্ষেতের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ভাটা সংলগ্ন এক কৃষক মোঃ এমাজ উদ্দীন। তার অভিযোগ বাগানের পাশের ইট ভাটার ধোঁয়ায় প্রতিটি আম গাছের ফলন কমেছে। শুধু তাই নয় আমের নিচের অংশে পঁচন ধরার পাশাপাশি ঝরে পড়ছে এসব আম। সেই সাথে পরিপক্কের সময় পেরিয়ে গেলেও আমের পূর্ণতা না আসায় আকারে ছোটই রয়েছে বাগানের এসব আম।
তার অভিযোগ, পূর্বে এ বাগান উচ্চ মূল্যে বিক্রি হলেও এবারে বাগানে এসে আমের অবস্থা দেখে ফেরত যাচ্ছেন ক্রেতা পাইকাররা। অনুরূপ অভিযোগ করেন বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগকারীরা। ক্ষতিগ্রস্থরা আরও জানান, এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়তই। এ ঘটনায় প্রশাসনের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এম এস ব্রিক্স এর সত্বাধিকারী মোকারম হোসেনের সাথে যোগাযোগের জন্য ভাটায় গিয়ে তাকে পওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পরিবেশ ও বন বিভাগ মন্ত্রনালয়ের সহকারী পরিচালক মিহির লাল সরদার জানান, উন্নত মানের কয়লা ব্যবহার করে ইট ভাটা পরিচালনার নিয়ম আছে। তবে এর ব্যত্যয় হলে ছাড়পত্র পাওয়ার কথা নয়। কয়লার ডাস্ট ও অন্যান্য উপাদান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাহনাজ মিথুন মুন্নী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil