বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:২২ অপরাহ্ন

পাহাড়ি জীবনে রোগব্যাধি ও নিরাময়ে  বৈদ্য ’দারুতালিক’ ওষুধিসমূহ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০, ১.১৬ পিএম
  • ৭২১ বার পঠিত
 ঔষুধি গুণাগুণ সম্পন্ন গাছ-গাছালির মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের চর্চাটি হাজার বছর তথা মানব সভ্যতার মতোই পুরোনো। আর আবহমান কাল থেকে বাংলা ভূ-খন্ডেও সম্পূর্ণ পাশ্বপ্রতিক্রিয়াবিহিন ওইসব ঔষধী গুল্ম-লতা-পাতার মাধ্যমে চিকিৎসার ইতিহাস রীতিমতো বিস্ময়কর এবং ঐতিহ্যবাহী।যুগে যুগে কবিরাজ-বৈদ্যগণ তাদের নিরলস পরিশ্রম আর গবেষনা চর্চা দিয়ে  চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়কে ঈর্ষনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এ্যালোপ্যাথিক  চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় সেই হারানো দারুতালিক (গাছ-গাছালির ঔষুধ) জগত ক্রমশ: ছোট হয়ে আসছে। হারিয়ে যেতে বসেছে সেসব রোগের নাম এবং তার ঔষদের নাম। পাহাড়ী জনপদের ভাষায় রোগের নাম  এবং তার নিরাময়ে হারানো সেই সব  ঔষধী সমূহের নামগুলো তুলে এনে এক অসাধ্য কাজ করেছেন রাঙ্গামাটির ইতিহাস প্রেমী অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক বিহারী চাকমা।তার সংগ্রহকৃত রোগের নাম এবং তার ঔষুধগুলোর প্রথম পর্ব নিম্নরূপ-

বিহারী চাকমা : পাহাড়ি জীবনধারায় প্রকৃতির দান অপরিসীম। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য উৎপাদন যেমন প্রকৃতি থেকেই হয় তেমনি বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা ও রোগ প্রতিকারের জন্য প্রকৃতি বা বন-বনানী গাছ-গাছালি থেকেই ওষুধ উৎপাদন করার রেওয়াজটিও আবহমান কাল থেকে চলছে ।

এক্ষেত্রে প্রাচীনকালের চাকমা বৈদ্যদের রোগ নির্ণয়, রোগের নাম ও বৈদ্যদের দারুতালিক এক অনন্য অবদান। এবার আমরা জেনে নেবো পাহড়ি জীবনের নানা রোগ ব্যাধির নাম ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধি গাছের নাম।
পীড়ে বা রোগ-ব্যাধির মধ্যে (১) আধুপীড়া, (২) কাঙেল পীড়া, (৩) পেটপীড়া, (৪) মাধা পীড়া, (৫) আদকোবালী, (৬) গুলভি (৭) তাক্কেট্,(৮) সাং,(৯) লো সাং, (১০) জুরোপীড়া, (১১) চিগুত্যা, (১২) সুলোনি, (১৩) ধাগসোমানি, (১৪) ধোগোনী,(১৫) কাজ্, (১৬) ছেবাকাজ্, (১৭) জ্বর, (১৮) কোরিহান, (১৯) ঘা, (২০) বিজিত্যা, (২১) কেরেঙাহ্,(২২) আরাঙা,(২৩) লোদি, (২৪) রাঙাপীড়া,(২৫) বহুমুত্র,(২৬) আচ্চাঢ়ি, (২৭) ঘামুঝি ফোড়া,(২৮) মুধরঅ ফোড়া, (২৯) কেজফোরা, (৩০) বিজফোরা, (৩১) উল, (৩২) ফারাঙি, (৩৩) দোদ, (৩৪) ভুদেপানা, (৩৫) অনছনঅ -দিককাবুলো অহ্না, (৩৬) পানিজানা( অন্তসত্ত্বা মহিলাদের) , (৩৭) পুঅ পীড়া (শিশুর হয়), (৩৮) কুর, (৩৯) আগাঝা, (৪০) ভুদোগুলি, (৪১) শালফুদোনা, (৪২) সাপহুদোহানা, (৪৩) ভ’অনা,(৪৪) দোলা, (৪৫) আবাং,(৪৬) দেম্বল,(৪৭) পোল্লা (পিলোই পোল্লা)(৪৮) আহ্ঘাপীড়া, (৪৯) রিস্যপীড়া, (৫০) পাগল, (৫১) দরপীড়া, (৫২) চন্দ্রঅহ্রণ, (৫) অহ্ধলোরানা, (৫৪) দাত সুলোনি, (৫৫) কানপিরে, (৫৬) চোখপিরে, (৫৭) লাত্দরঅ অন্হা, (৫৮) ওগোলানা, (৫৯) এদাজুরোনা, (৬০) পিগিরেদ্দাম, (৬১) ধোরা, (৬২) দেনো আঝঢ়, (৬৩) ভুদো আঝঢ়, (৬৪) গোঙা আঝঢ়, (৬৫) জোন্য, (৬৬) বিজ দেম্বল, (৬৭) কালাপীড়ে,( নাগাহুপপীড়ে, (৬৮) ডেনো উইফুত্, (৬৯) ডেন আহ্ঝা, (৭০) ডেন্ জোগোঢ়া, (৭১) বড়শিল্যা আঝঢ়, (৭২) রুক্তা দিত্তি, (৭৩) কুম্কুম্, (৭৪) ভুদোঝুরো, (৭৫) লো পিনেচ্, (৭৬) জুক্ পিনেচ্, (৭৭) ছামুক্ পিনেচ্, (৭৮) অজোন্য, (৭৯) পোরমামোছ্, (৮০) সাংসুল পীড়ে, (৮১) পাংসুল পীড়ে, (৮২) পক্ষীবাত, (৮৩) চেবেদাঙ বাত্, (৮৪) দুম্বুরি সাং, (৮৫) ভিদিরো পীড়ে, (৮৬) ফুল্যাপীড়ে, (৮৭) ঝগোমাপীড়ে, (৮৮) উজুলিগুলি- ২২ প্রকার) (৮৯) পান্ডুপীড়ে, (৯০) পিত্রক্রধাক, (৯১)মুখ জারি,( ৯২) মুঘী পীড়ে, (৯৩) ঈহ্র‌্যা আঝঢ়, (৯৪) এইক্কোনিহ্ আঝঢ় ইত্যাদি নানা প্রকার জটিল, অদ্ভুত ও রহস্যজনক রোগব্যাধির কথা গ্রামে শোনা যায়।
বৈদ্যদের দাবি মতে দারুতালিকের ওষুধ পত্র দিয়ে দূরারোগ্য ক্যান্সার ও অনেক জটিল রোগের চিকিৎসাও সম্ভব। এবার দেখা যাক দারুতালিকের ওষুধির নাম- (১) দেনো আহ্থপঅ (২) দাদকাধি লোদি (৩) গুয়ো আরুক্ (৪) ভারত্ত চারা (৫) সুংসুম্যা আন্নোল্ (৬) কাদা আ্েন্নাল্ (৭) কুরো আহ্র লোদি (৮) বোস্যা অহ্রলোদি (৯) ছাদি উরোস্যা (১০) কাধং গাছ (১১) চিদিরে বেই শাক (১২) ছাগল চোত্তা (১৩) ধুববেই শাক (১৪) লোদি মোন চোত্তা (১৫) দূর উদোল (১৬) ধুবতোরা (১৭) শিগিরেশিক্ (১৮) বোনজামেরা (১৯) গাঙপেরেজাং (২০) কিজিংছিনে পাদা (২১) দুবো নির্ভিজ (২২) গাজ নির্ভিজ (২৩) মোরমোচ্যা পাদা (২৪) ধেলা গামারি (২৫) মোরমোচ্যা আমিলে (২৬) তিনঠুপ্যা আ্েন্নাল্ (২৭) লোদি সলগঝারা (২৮) পাদালপুর (২৯) পারাঙা (৩০) কেরেদ চারা (৩১) বেদাগী চারা (৩২) চেয়োধীবে (৩৩) কালাকুঝুম (৩৪) ধুবকুমোরী (৩৫) ধুব আহ্স-কুরো (৩৬) লোদি পেমাহ্ (৩৭) লোদি রানিত্তাক (৩৮) কুজুম কোঝোই লোদি (৩৯) পুনোং লামা শাক (৪০) ফাত্ত্য মোরমোচ্যা (৪১) কালা আম্মোছ্ (৪২) কাল্যা কোরা (৪৩) বাঝক পাদা (৪৩) বাঙাল আম্মোছ্ (৪৪) বরজুওস রেস্যা ফুল (৪৫) চিনধেবাচ্ হের (৪৬) মেধোরী গাছ্ (৪৭) বেরগোলী হের (৪৮) জোঙোলী-জঙল (৪৯) তেঙা সোরা (৫০) ফাস্যা শুগুনী (৫১) মোনমোন্যা (৫২) ঘোস্যা তঙর (৫৩) তোম্বাংগাদু (৫৪) কালা মোঘোমা (৫৫) মুরো চন্দন (৫৬) বিজ্ কাদালী (৫৭) আঘোনি তিদে (৫৮) শুগোর আমিলে (৫৯) ভুত্তোলোদি (৬০) বনতোলোঝি (৬১) সোত্তিসোরা (৬২) বরলেজুঅ (৬৩) রঙ গাছ (৬৪) রাম্যাং লোদি (৬৫) বরসুরুদি (৬৬) ধুব সুরুদি (৬৭) রাঙা সুরুদি (৬৮) তিন থুপ্যা সুরুদি (৬৯) বারপোরমা (৭০) লোদি সারবুঅ (৭১) শিঙোরি কাদা (৭২) লোদি রাগা রাজ্ (৭৩) সুচ্চান (৭৪) লাঙাহ্ আহ্ধ প (৭৫) বিঝো মা (৭৬) এইল আঝাঢ় (৭৭) সুজ্যা চারা (৭৮) ঠান্ডা মানেক (৭৯)কেগোই লোদি (৮০) (আহ্দি ব (৮১) কোরফুল (৮২) বর আর চাঙাহ্ (৮৩) কালা ওঝোন (৮৪) চিগোন সুদোমা (৮৫) কেদা ফল পাদা (৮৬) শিলফোজি (৮৭) কালি ধাগোনি গাছ (৮৮) লোদি রেস্যা (৮৯) গাঙ রেস্যা (৯০) পেমাহ্ (৯১) কাত্তোং দগর (৯২) এইধ্ কান্নোল্ (৯৩) কালাদারু (৯৪) মাঝি পেদানী (৯৫) পাঙ্খা গাজ্ (৯৬) জারোলো পোরশাল্ (৯৭) বরচোল্যা (৯৮) সোবোন পাহ্ল (৯৯) হারুলোদি ( ১০০) সেচ্চেনা গাজ্ (১০১) সুবোই লোদি (১০২) কেরেঙা (১০৩) উলুলোদি (১০৪) ডেইল লোদি (১০৫) রেগেজ চারা (১০৬) কিধক্ (১০৭) কালা ঝোনঝোনি (১০৮) পিচ্ছোল নাজোনি (১০৯) হোরবো গাজ্ (১১০) দূর কোন (১১১) ইঝিঙ (১১২) ছ মাস্যা (১১৩) দূর উদোল (১১৪) শোন্য কোলা (১১৫) শোন্য অর্জুন (১১৬) ঘিলে লোদি (১১৭) বিজ কাদালি, (১১৮) রেস্য সিভেং (১১৯) কাঙারা ঘিুলক শাক (১২০) এইল লোদি (১২১) গাঙচুমোহ্ (১২২) রাঙাজারি (১২৩) ধুবজারি (১২৪) রাজা গাজ্ (১২৫) বান্দরতালা (১২৬) তরু লোদা (১২৭) তঅ লোদি ইত্যাদি ওষুধি গাছের নাম পাওয়া যায়। এরকম সহস্রাধিক ঔষুধি গাছ বা ‘দারু’ রয়েছে বলে বৈদ্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তবে বেশকিছু ওষুধি বিলুপ্ত প্রায় বা খোঁজ মেলে না বলে চাকমা বৈদ্যরা জানান।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil