শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

বদরগঞ্জ পৌরসভায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ : কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রস্ততি সম্পন্ন

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০, ৩.২৬ এএম
  • ৭১ বার পঠিত

মোঃ আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

করোনা ক্রান্তিকালের মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার যখন মরিয়া, প্রশাসন থেকে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেয়া হচ্ছে কঠোর নির্দেশনা, সেই দুর্যোগকালে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় তড়িঘড়ি করে প্রায় এক কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আগামীকাল শনিবার বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম কুমার সাহা ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের আশঙ্কা ও নিয়োগ বন্ধের দাবীতে আবেদনকারী দুই প্রার্থী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ বাণিজ্যের খবর ফাঁস হয়ে পড়লে সাধারণ প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, চলতি বছরের শেষে বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহার মেয়াদ পূর্ণ হবে। কিন্তু তিনি প্রয়োজনীয় লোকবল থাকার পরেও আরো ছয়টি পদের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি জাতীয় দৈনিকে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর মাত্র তিনদিন আগে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য হঠাৎ করে আবেদনকারীদের বরাবরে পত্র পাঠানো হয়। করোনা পরিস্থিতির এই দুর্যোগ মুহুর্তে অনেক প্রার্থী এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। আবার অনেকেই হতভম্ব হয়ে পড়েন।

এদিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে মালি পদে আবেদন করেন পৌরশহরের তরুণ কান্তী রায় ও গার্ড পদের জন্য মোস্তাফিজার রহমান নামে দুই যুবক। তাদের অভিযোগ, সাধারণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে গোপনে তড়িঘড়ি করে মেয়রের মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে মেয়র সাহেব লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

তাদের দাবী, এ অবস্থায় কোনভাবেই ওই নিয়োগ পরীক্ষা নিরপেক্ষ হতে পারে না। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি পদের জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা আগেই হাতিয়ে নিয়েছেন মেয়র উত্তম সাহা। যে ছয়টি পদের জন্য তার মনোনীত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন তারা হলেন, সহকারী এ্যাসেসর পদের রিয়াদ হোসেন, সহকারী কর আদায়কারী পদের প্রার্থী মেজবাউল সরকার, বাজার পরিদর্শক পদে সচিবের নিকটাত্মীয় কুড়িগ্রামের এক বাসিন্দা, গার্ড পদে দিপংকর, দারোয়ান ও মালি পদে মেয়রের দুই নিকটাত্মীয়।

এদিকে নিয়োগ কমিটিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি, পৌরসভার সচিব, প্রকৌশলী ও মেয়রের একজন আস্থাভাজন কাউন্সিলর।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বদরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এ যাবত একাই শাসন করছেন মেয়র উত্তম কুমার সাহা। একাধারে দায়িত্ব পালন করায় তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড় জমে আছে। কিন্তু পৌর আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে তিনি বার বার দুর্নীতির সমুদ্র সাতরে পার হচ্ছেন। এরমধ্যে তার সময়কাল শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। বিদায়কালে তিনি মরণ কামড় দেয়ার বন্দোবস্ত সম্পন্ন করেছেন।

টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে মেয়র উত্তম কুমার সাহা বলেন, ‘যে কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন। এ নিয়ে অনেক ব্যাপার-স্যাপার আছে। আর করোনা মহামারীর অনেক আগেই বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। কারো কাছে টাকা নিয়েছি কেউ বলতে পারবে না।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন বলেন, ‘এই মহামারীতে কোন ধরণের নিয়োগ সম্পন্ন ঠিক নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ধরণের অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগ্ন সচিব সায়লা ফারজানা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপ সচিব ফারজানা মান্নান (পৌর-২) বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ধরণের অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, নিয়োগের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। এর বাইরে আমার কোন মন্তব্য নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil