বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

বাবা – শামীমা আক্তার সাথী (পড়ার অনুরোধ রইলো সবার প্রতি)

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ জুন, ২০২০, ৮.৫৪ পিএম
  • ১৭২ বার পঠিত

বাবা
শামীমা আক্তার সাথী
(পড়ার অনুরোধ রইলো সবার প্রতি)

একটি ছেলে যখন যুবক হয়, তখন সে বাবা কি তা তেমন বুঝতে চাই না?। যতদিন ছোট ছিল ততদিন শুধু সে বাবাকে বাবার আদর ভালোবাসায় নিয়ে আসা চকলেট বিসকুট কে ভালোবাসতো।সবার আগে দূরে গিয়ে বাবার কোলে লাফিয়ে উঠত।
সে তখন এক কথায় বলতো আমার বাবাই সেরা।আবার কালি হাতে বাড়ি ফিরলে বাবা একদম পচা।

কিন্তু যখন সে যুবক হলো,তখন তার উপর বাবার আদর মুছে শাসনের চাপ ভারী করতে লাগলো ।চকলেট বিসকুট এর বদলে হাতে লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগলো।
সেই সময় বাবা তার কাছে আর সবার সেরা না। তার কাছে তার পাড়ার সমবয়সী বন্ধু-বান্ধব গুলোই এখন সেরা।

আসলে এখন তো সে রঙের তুলিতে জীবন রাঙ্গিয়ে মেঘের পাল্কিতে গা ভাসিয়ে হাওয়ার মাঝে উড়ে বেড়াচ্ছে।
তাই সে এখন বাবার শাসন কে পায়ের শিকল ভাবে।
আর যত পারে বাবাকে আঘাত করে দূরে পালায়ন করে।
অথচ সেই সময় একবার ও সে বুঝে না।তার বাবা তার শরীরের ছায়া ছিল।তিনি যা করে তা তার ভালো চেয়ে করে।

কয়েকবছর পর-
সে যুবক থেকে বিয়ে করে করে সংসারি হলো।সেই সময় বাবার কোনো কর্ম নাই অবসর।তাই বাবা তার কাছে একটা বোঝাই পরিণীত হলো।
বাবাকে রীতিমত সে অবহেলা, অনাদর,অযত্ন করতে লাগলো।

বাবা সেইসময় কর্মহীন দুর্বল বলে,সন্তানের সব অত্যাচার নীরবে সইয়ে গেলো।
শুধু অপেক্ষায় রইলো,তার সন্তান যখন বাবা হবে তখন হয়তো সে তার বাবার মূল্য বুঝবে।

সত্যি তাই –
সে যখন বাবা হলো তখন ঘরের কোণে পড়ে থাকা বাবা কি? তা একটু একটু বুঝতে এবং অনুভব করতে লাগলো।
সে নিজে যখন তার সন্তানের জন্য কিছু খেতে বসে খেতে পারে না।তখন ভাবে হয়তো আমার বাবাও এমন হতো আমার জন্য।
তা ভেবে দুইফোটা চোখের জল নীরবে ঝরালো সে তার চোখ থেকে।
বাসায় গিয়ে কি আর বৃদ্ধ বাবার কাছে যাবে, দজ্জাল স্ত্রী যেতে দিলে তো।

সে তো প্রথম থেকে বাবাকে অবহেলা করে গিয়েছিল।যার ফলে স্ত্রী এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। এখন মন চাইলে ও সে তার বাবার কাছে যেতে পারে না ছুটে স্ত্রীর ভয়ে।

আর যখন তার সন্তান যুবক হলো, সে যখন বাবার মত শাসনের লাঠি হাতে নিলো।তখনও আবার বাবার শাসন অনুভব করতে লাগলো।আর নিজে নিজে ঘৃণা করতে শুধু করলো এই ভেবে কেন তখন বাবার শাসনের মূল্য বুঝিনাই।বাবা তো তখন আমার ভালো চেয়ে শাসন করতো।আজ আমি যেমন করি। হায় আফসোস।নালত নিজের উপর।

এমন করে আরো কিছু দিন যায়-
বাবার জীবনে সন্ধ্যা নেমে এলো।
বাবার নিঃশ্বাসটা সাঁঝবাতির মত নিবুনিবু করছে।
হঠাৎ রাত্রি গভীর হয়ে প্রভাত আসতে না আসতে সাঁঝেরবাতি চিরতরে নিভে যায়।
অথ্যা বাবা এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেই।

সেই সময় সন্তান দাফন করতে গিয়ে বাবাকে, বাবার প্রতি করা ভুল গুলো, বাবার প্রতি অনাদর অবহেলা গুলো মনে করে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।
শুধু পারেনা বাবাকে আবার ফিরিয়ে এনে তার ভুল গুলো শুধরাতে।

আমার ভাষায় সন্তান তখন মনে মনে বলে,
” তুমি নাই বাবা আমার এই জীবনে,
তাই আমার আলো নাই ত্রিভুবনে।
যখন ছিল তখন বুঝিনী তোমারে,
এখন বুঝি তুমি আমার ছায়া ছিলে প্রতি প্রহরে।
অন্তরখানি কেঁদে কেঁদে মরে,
চাইলে আর পাবো না ফিরে তোমারে।
তোমার প্রতি শ্রদ্ধা সালাম জানাই চিরতরে।
আসবো আমিও একদিন ফিরে এই কবরে।
তোমার মত অনাদর অবহেলায় পরে।
তোমায় যে কষ্ট দিয়েছি
তার শাস্তি পাবো আমি এই ভবপুরে।
আল্লাহ্‌ তোমায় নাজাত দেয় যেন করব দেশে
তুমি থাকিও জান্নাতের ফুল হয়ে ফোটে হেসে।”

বাবা দিবসে সকল বাবাকে জানাই শ্রদ্ধা আর সালাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil