বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মৌলভীবাজার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৫৮৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্রীমঙ্গল থেকে গরু চোর আটক: ৪ গরু উদ্ধার কুলাউড়ায় ১৭৮৫ পিস ইয়াবাসহ, র‍্যাবের হাতে আটক (১) জন ভৈরবে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৪ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম(এমপি) চিরদিন বেঁচে থাকবে জনসাধারনের মাঝে-চরফ্যাশন বিএমএসএফ এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ্য টাকা নিয়ে উধাও সিলেটের শাহজাহান প্রতারক গরিব অসহায় মানুষ আমার বন্ধু  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াছির উদ্দিন আহমেদ (কাওছার) ভৈরবে অন্তসত্বা কল্পনা নামে (বুদ্ধি প্রতিবন্ধি) কিশোরীর রহস্য জনক মৃত্যু জুড়ীতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক স্থাপনে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করতে পারবে না সাফারি পার্ক হবেই হবে পরিবেশমন্ত্রী বড়লেখায় আওয়ামীলীগের নতুন অফিস উদ্ভোধন করলেন পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন

বাল্যবিবাহঃকারণ ও প্রতিকার

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০, ৬.৩৫ পিএম
  • ১৬৫ বার পঠিত

দিদারুল ইসলাম রাসেল,ইবি প্রতিনিধিঃ

সবুজে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ যখন সকল সমুদ্রের স্রোতের মত সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছে,তখন কিছু সামাজিক সমস্যাও তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।আর এই সামাজিক সমস্যার কারণে মানুষ মানুষত্ব ভুলে গিয়ে পশুত্ব ধারণ করে বসেছে।আর সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাল্যবিবাহ।বাংলাদেশে যথাযথ আইন থাকার পরেও থামছে না এ সামাজিক ব্যাধি।সাম্প্রতিক কালে বাল্যবিবাহ আইন,২০১৮ ও প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ। আইনত বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। কিন্তু বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি সাপেক্ষে এই বয়সের আগেও বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, তারপরও কিছু কিছু দেশের নিজস্ব প্রথাকেই আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাল্যবিবাহে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের উপরই প্রভাব পড়ে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষত নিম্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ বাল্যবিবাহে দুজনের মধ্যে শুধু একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে।

বিশেষত মেয়েরাই বাল্যবিবাহের শিকার বেশি হয়।
বাল্যবিবাহের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানত – দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা।

বিভিন্ন কারণেই বাল্যবিবাহের প্রচলন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ। এখনও উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন, আফ্রিকার কিছু অংশ,দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া,লাতিন আমেরিকা এবং ওশেনিয়া প্রভ্রৃতি দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত।

নাইজার, চাদ, মালি, ভারত, বাংলাদেশ,গিনিও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে বাল্যবিবাহের হারসবচাইতে বেশি, যা প্রায় ৬০% এর উপর। ২০০৩-২০০৯ জরিপ অনুযায়ী, নাইজার, চাদ,বাংলাদেশ,মালি এবং ইথিওপিয়াতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর উপর।

ইতিহাসের দিকে তাকালে লক্ষ্য করা যায়,১৫৩৩ সালে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজকন্যা এমিলিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের রাজপুত্র ৪৮ বছর বয়সী জর্জ -কে বিয়ে করেন।

ঐতিহাসিক ভাবে, বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ একটি প্রচলিত প্রথা। তবে এই প্রথা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে যখন বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বৃদ্ধি পায়।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধির আগেই বিয়ে দেয়া হত। প্রাচীন গ্রিসে কম বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্ব উৎসাহিত করা হত। এমনকি ছেলেদের ও তাদের কৈশোরেই বিয়ের জন্য উৎসাহ দেয়া হত। বাল্যবিবাহ ও কৈশোরে গর্ভধারণ খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল।

প্রাচীন রোমে মেয়েদের বিয়ের বয়স ছিল ১২ বছরের উপর এবং ছেলেদের ১৪ বছরের উপর। মধ্যযুগে ইংলিশ আইন অনুসারে ১৬ বছরের পূর্বে বিয়ে সর্বজন স্বীকৃত ছিল।

ধার্মীয় দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়,বেশিরভাগ ধর্মে বিবাহযোগ্য বয়সকেই সমর্থন করা হয়। খ্রিস্ট ধর্মে বয়ঃসন্ধির আগে কোনো মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। হিন্দু বৈদিক লিপিতে মেয়েদের বিয়ে বয়ঃসন্ধি শুরুর ৩ বছর পর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইহুদি বিশেষজ্ঞগণ বয়ঃসন্ধির পূর্বে বিয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন, কিন্তু একই সাথে, ক্ষেত্রবিশেষে, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশু কন্যাকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারেন।

ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে, সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ছেলেদের জন্য ১৪ ও মেয়েদের জন্য ১২ ধরা হয়। পরে ১৯৮৩ সালে যাজকীয় অনুশাসনে ১৯১৭ সালের সংশোধিত বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর বজায় থাকে। কিছু ইসলামি বিয়ের প্রথানুযায়ী ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়ার প্রচলন আছে। সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম -এর বর্ণণা অনুসারে, শরীয়াহ আইনের ভিত্তি হল মহানবী (সাঃ) -এর জীবনাদর্শ। তিনি তাঁর তৃতীয় স্ত্রী আয়শা (রাঃ) -কে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়স থেকে বৈবাহিক জীবন শুরু করেন। কিছু মূলধারার ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সময়ানুক্রমিক বয়স নয়, বরং অভিভাবকরা যখন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মেয়েকে বিবাহযোগ্য মনে করবে মুসলিম ধর্মীয়আইনানুযায়ী সেইটাই বিয়ের উপযুক্ত বয়স। তবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। এবং শরীয়াহ আইনের ভিত্তি অনুযায়ী এবং অধিকাংশ মুসলিম চিন্তাবিদের মতে ১৩ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য।

এ সামাজিক ব্যাধি থেকে থেকে মুক্তি পেতে হলে সবচেয়ে আগে দরকার জনসচেতনতা।কারণ সমাজের একজন মানুষ যখন নিজে সচেনত হবে তখন এ মারাত্বক ব্যাধি দূর হতে শুরু করবে।তার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগও দরকার।আইন থাকা সত্ত্বেও যখন মানুষ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয না,তখন আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া উপায় থাকে না।
সর্বোপরি,বাংলাদেশকে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সামাজিক ব্যাধি চিরতরে দূর করে সোনার মানুষ হতে হবে।সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে,পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যোগ্য নাগরিকের পরিচয় দিতে হবে।

লেখকঃ
দিদারুল ইসলাম রাসেল
আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
০১৮৬৫৯১৯৪৩০।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil