শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়ার দেহরক্ষী ডিএসসিসি’র কর্মকর্তা চাকুরিচ্যুত

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২০, ৪.১৩ পিএম
  • ৩১১ বার পঠিত

আসাদুজ্জামান বাবুলঃ অবশেষে ধরা খেলেন বিএনপি,র সাবেক মহাসচিব মরহুম মান্নান ভূঁইয়ার সহযোগী ডিএসসিসি,র মাফিয়াচক্রের আরেক অন্যতম সদস্য নগর পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা আতাহার আলী খান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব বিভাগের বাজার সার্কেল-৩ এর কর কর্মকর্তা বর্তমানে নগর পরিকল্পনা বিভাগে সংযুক্ত আতাহার আলী খানকে আবারও চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৯ মে) তারিখে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ২০১৯ এর বিধি ৬৪ (২) মোতাবেক জনস্বার্থে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্বার্থ রক্ষার্থে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো মর্মে এ আদেশ জারি করে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস তাকে অপসারণ করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, ডিএসসিসি,র মাফিয়া চক্রের সদস্য আতাহার আলী খান ইতিপূর্বেও নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও মার্কেটের দোকান বরাদ্দের ফাইল গায়েবের অভিযোগে তৎকালিন মেয়র মোহাম্মাদ সাইদ খোকন তাকে চাকুরি থেকে অপসারণ করেন। কিন্তু কোনো আইন তাকে আটকে রাখতে পারেননি। অবৈধ টাকার জোরে উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন ছল চাতুরি ও কুট কৌশলের মাধ্যমে পুণরায় চাকুরি ফিরে পায়। শুধু তাই নয় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা বকেয়া বেতন ভাতাও উদ্ধার করে নেন।

কে এই ডিএসসিসি’র মাফিয়া চক্রের সদস্য আতাহার আলী খান :  জানা যাক তার পরিচয়, নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তার পিতা একজন স্কুল মাষ্টার ছিলেন।৫ জন সন্তান নিয়ে পিতা আবদুল সোবাহান মাষ্টারের দিন চলতো অতিকষ্টে। ছাত্রজীবনে আতাহার আলী খান কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হওয়ার পর তার দেহরক্ষী হিসাবে আগমন ঘটে আতাহার আলী খানের।প্রতিদিন মন্ত্রনালয়ে গিয়ে বসে থাকা এবং বাসায় ফুট-ফরমাস করা আর মন্ত্রীর গাড়ির নিরাপত্তার গাড়ি দিয়ে যাওয়া-আসাই ছিল তাহার কাজ। এই সুযোগে দালালী করে গ্রামের বাড়িতে ছনের ঘরের পরিবর্তে হয়ে গেল বিশাল দুতলা দালান। নিজের আপন ছোট ভাইকে লন্ডন পাঠিয়ে লেখাপড়া করানো ও চাচাত ভাই সহ ৪-৫ জন নিকটাত্মীয়কে সমবায়ে চাকুরী দিয়েও হাতিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। পরবর্তীতে বিএনপির ক্ষমতাচুত হওয়ার আগেই মন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়ার মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অবৈধভাবে তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা দিয়ে একদিনেই ইন্টারভিউ ,ভাইবা নিয়ে করকর্মকর্তা হিসেবে এপয়েন্টমেন্ট লেটার দেন। আলাদিনের চেরাগ হিসেবে হাতে পেলেন ক্ষমতা। আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি আল্পদিনের মধ্যেই শতকোটি টাকার মালিক।

যেই কথা সেই কাজ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ঢাকা টেড সেন্টার, বংগবাজার, সিটি প্লাজা ,নগর প্লাজা , সুপার মার্কেট ও কাপতান বাজার কমপ্লেক্স ১ ও ২ মার্কেটমেয়র ৫২ টি দোকান তাহার পিতা ,ভাই , বোন ,বিয়াই সকল নিকটাত্মীয়ের নামে ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নামে বরাদ্দ নেয় ও অনেকগুলি দোকান বিক্রয় নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে তার নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে ২২ টি দোকান কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্সের নীচ তলার সম্মূখভাগের সব চাইতে দামী দোকানগুলো রয়েছে বলে সুত্রে জানাগেছে। দোকানগুলি থেকে সে প্রতি মাসে ১ কোটি টাকার অধিক ভাড়া পায়। দোকানগুলোর বর্তমান মূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। এই দোকানের নথি প্রথমবার তার চাকুরি চলে যাওয়ার সাথে সাথেই তার দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে দিয়ে নগর ভবন থেকে পাঁচার করেন। যা গত ১০ বছরেও সিটি করপোরেশনের কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করতে পারেনি। যে কারণে প্রাক্তন মেয়র মোহাম্মদ সাইদ খোকন চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কিন্তু সে অবৈধ টাকার জোরে উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন ছল চাতুরি ও কুট কৌশলের মাধ্যমে পুনরায় চাকুরি ফিরে পায়।

শুধু তাই নয় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬০ লক্ষ টাকা বকেয়া বেতন ও নিয়ে নেয়। এসব দোকান ছাড়াও তাহার নিজের বা কোন নিকটাত্মীয়ের নামে ঢাকায় ফ্লাট , র্র্যাভ-৫ গাড়ি ও পুর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট ও ঐ এলাকায় ১২ বিঘা জমি সহ অনেক অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। সে অন্যায়, অবৈধ ও অনৈতিকভাবে গ্রামের বাড়ির একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ দখল করে ২০-২৫ লক্ষ টাকা গোপন লেনদেনের বিনিময়ে। যা এলাকার মানুষের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে গত ১ দশক যাবত– এমনটাই জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

বুধবার (১৯ মে )সন্ধ্যায় কর্পোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন নগদ প্রাপ্ত হবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১৯ এর বিধি ৬৪ (২) মোতাবেক জনস্বার্থে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বার্থ রক্ষার্থে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। এর আগে গত রোববার ডিএসসিসির প্রভাবশালী দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তা হলেন—ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার। দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিসের প্রথম দিনেই গত রোববার (১৭ মে) দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে এমন ব্যবস্থা নিয়েছিলেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের অফিস আদেশের মাধ্যমে ডিএসসিসির এ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil