বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

বিচারের বাণী নিরবে কাঁদে দুই বছরেও বিচার পায়নি রামগঞ্জের শিশু নুশরাতের মা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০, ৯.০৪ পিএম
  • ২০৭ বার পঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা:

আর কাঁদতে পারি না, ক্লান্ত হয়ে গেছি কাঁদতে কাঁদতে। চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। হে আল্লাহ আমার নুশরাতকে ফিরিয়ে দাও। কী অপরাধ ছিলো আমার মেয়েটির। কোন অপরাধে এত বড় সাজা দিয়েছো তুমি আমাদের। পাষন্ড জানোয়ার রুবেল, আমার অবুঝ শিশু নুশরাতকে এমন নির্মমভাবে কেন হত্যা করলি? এভাবেই রাত-দিন আহাজারি করছেন জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আলোচিত ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের শিকার শিশু নুশরাতের বাবা এরশাদ মিয়া ও মা রেহানা বেগম। তারা আরো বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেছে এখনো আমাদের মেয়ে নুশরাত হত্যার বিচারের রায়টা হলোনা। অথচ ফেনীর নুশরাতের বিচারের রায় হয়ে গেলো খুব দ্রুত। আমাদের শিশু নুশরাতকে তো আরো নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত মেয়ে নুশরাত হত্যার বিচার চাই। ১৬জুন ২০২০ইং (মঙ্গলবার) সকালে নুশরাতের বাড়ি উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে পৌছলে তার বাবা মা কাঁদতে কাঁদতে উপরোক্ত এসব কথা বলেন।
রামগঞ্জ থানা ও ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ২০১৮ইং সনের ২৩ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের সামান্য আগে উপজেলার ২নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও কালা মেস্ত্রি বাড়ীর সৌদি প্রবাসী এরশাদ মিয়ার কন্যা স্থানীয় ফয়েজে রাসূল নুরানী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুশরাত নুশু (৮) নিখোঁজের তিনদিন পর ২৬ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় নুশরাতের বাড়ী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে পাশ্ববর্তি কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ীর ওয়াপদা খালে ভাসমান ব্যাগ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় রামগঞ্জ থানা পুলিশের এস আই পঙ্কজ ও এস আই কাউসারুজ্জামান। ওইসময় স্থানীয় এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুলিশ ব্যাগ খুলে দেখে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় একটি মেয়ে শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন মা রেহানা বেগম ও মামা জিয়া উদ্দিন। কানের দুল ও জামা দেখে নুশরাতের লাশ শনাক্ত করেন তারা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হসপিটালে মর্গে প্রেরণ করলে ধর্ষন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত মিলে। পুলিশ কৌশলে মাঠে নামেন ধর্ষন ও হত্যাকারীদের আটক করতে। নুশরাতের লাশের সাথে উদ্ধার হওয়া ব্যাগ ও ছবি দিয়ে লিফলেট বিতরন করা হয় জেলাব্যপি। এক সপ্তাহ পর লাশের ব্যাগ বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাচালক মোঃ রাকিব হোসেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানাকে অবগত করেন বিষয়টি। আটক করা হয়, ধর্ষন ও হত্যাকান্ডের মূল হোতা শাহ আলম রুবেলের বন্ধু নোয়াগাঁও বাজার ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে। বোরহান উদ্দিনের দেয়া তথ্যমতে ২০১৮ইং সনের ১ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে রামগঞ্জ থানা পুলিশ খুলনা মেট্রো পলিটন পুলিশ ধর্ষক ও খুনী শাহ আলম রুবেল (৩২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে শাহ আলম রুবেল লক্ষীপুর সিনিয়র জুডশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধিতে জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে আইসক্রীম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু নুশরাতকে তার ঘরে ডেকে নেয়ার পর গলা ছেপে ধরে জোরপুর্বক নুশরাতকে ধর্ষন করা অবস্থায় শ্বাসরোধ হয়ে সে মারা যায়। লাশ লুকানোর জন্য পাটি দিয়ে মুড়িয়ে স্টীলের আলমিরার উপর রেখে দেয়। রাতে হাত পা মুড়িয়ে নুশরাতের লাশ ব্যাগে ভরে ঐদিন রাতেই ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ী বন্ধু বোরহানের সহযোগীতায় ডেকে আনা হয় সিএনজি চালক রাকিবকে। লাশ ভর্তি ব্যাগটি সিএনজিতে তুলে বাড়ী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে ব্রহ্মপাড়া ঠাকুর বাড়ীর খালে ফেলে দেয়া হয়।
শিশু নুশরাতের মা রেহানা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। আমি ধর্ষনকারী, খুনী রুবেলের ফাঁসি চাই। দীর্ঘ ২ বছর হয়ে গেলো, এখনো আমরা মেয়ে নুশরাত হত্যার বিচার পাইনি। উপরুন্ত জেলে থাকা ধর্ষনকারী রুবেলের পরিবারের লোকজন আমাদের হুমকি দিচ্ছে। রুবেলে বাবা সিরাজ মিয়া আমাদের বিরুদ্ধে লুটপাট ও ঘর পোড়ানো মামলা দিয়েছে । আদালতে ও বাড়ীতে আসতে যেতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। অবশেষে বিজ্ঞ আদালত ঘাতক রুবেলের বাবার দায়ের করা মিথ্যে মামলা খারিজ করে দিয়েছে।
নুশরাতের বাবা এরশাদ মিয়া জানান, আজ দুই বছর হয়ে গেলো আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার পাইনি। আমাদের কোটি টাকার লোভ দেখাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আমি বিদেশ থেকে চলে আসছি, পরিবারের নিরাপত্তার কারনে আমি বিদেশে যেতেও ভয় পাচ্ছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এস আই কাওসারুজ্জামান (বর্তমানে লক্ষীপুর জেলা সদরে দায়িত্বরত) জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে আদালত বন্ধ থাকায় নুশরাত হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। করোনার আগে মামলাটির সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আসামী পক্ষের লোকজন স্বাক্ষী দিতে নানান কালক্ষেপন করে আসছে। তবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম চালু হলে খুব দ্রুত রায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil