বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

বড়লেখায় অপহরণের ২দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১, ৭.১৩ পিএম
  • ২৪ বার পঠিত

 

এম. এম আতিকুর রহমান:অপহরণের ২ দিনের মধ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর চা বাগান থেকে ব্যবসায়ী শশাঙ্ক কুমার দত্তকে (৫৮) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ অপহরণকারীকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রোববার (৬ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে বাগানের নির্জন জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে আজ সোমবার দুপুরে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শশাঙ্ক কুমার দত্ত বড়লেখা পৌর শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বারইগ্রামের বাসিন্দা সতেন্দ্র কুমার দত্তের বড় ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের চন্ডিনগর গ্রামের সবুজ হোসেন, ইব্রাহিম আলীর ছেলে ইসমাইল আহমদ ওরফে হারুন ও বোবারথল গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে জুলমান অাহমেদ।

দুদিন আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর তার মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছিল অপহরণকারী চক্র। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া তাঁর কার্যালয়ে আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা অনুমান ৬ ঘটিকার দিকে শশাঙ্ক কুমার দত্ত তার নিজ বাড়ি হতে সিলেট টিলাগড়স্থ ভাড়াটিয়া বাসার উদ্দেশ্যে বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা রওয়ানা করেন। এরপর তিনি বিয়ানীবাজার থানার বারইগ্রামে সিএনজি পরিবর্তন করে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে আরেকটি সিএনজি গাড়ীতে উঠেন। সিএনজি গাড়ী যোগে বারইগ্রাম হতে সিলেট যাওয়ার পথে সিলেট বিয়ানীবাজার থানার মোল্লাপুর রাস্তার সম্মুখে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস শশাঙ্কের সিএনজি গাড়ীটি গতিরোধ করে তাকে মাইক্রোবাসটিতে তুলে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপহরণকারী চক্র শশাঙ্ক দত্তকে একটি অজ্ঞাতস্থানে রেখে বিভিন্ন ভিওআইপি নাম্বার হতে ভিকটিমের ছোট ভাই সুবোধ কুমার দত্তের মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এরপর তিনি (সুবোধ) থানায় এসে আইনগত সহায়তা চাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের বিশেষ টিম, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষগণ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রহস্য উদঘাটনে একটানা অভিযান অব্যাহত রাখে। এরপর রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩০ ঘটিকার সময় অভিযান চালিয়ে বাহাদুরপুর চা বাগানের গভীর জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, অপহরণের ৫৫ ঘণ্টার মধ্যে জেলা পুলিশ, ডিবি’র টিম এবং র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিটি মুহূর্তের ফল স্বরূপ অপহরণকৃত ভিকটিম শশাঙ্ক কুমার দত্তকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানকালে ভিকটিম যে ঘরে আটক ছিলেন তা কৌশলে শনাক্তপূর্বক জেলা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের যৌথ টিম ঘরটিকে নিরাপদ দূরত্বে ঘিরে ফেললে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিকটিমকে সাথে নিয়ে অপহরণকারী অনুমান ৭/৮ জন বাহাদুরপুর চা-বাগানের গভীর জঙ্গলে দৌড়ে পালাতে থাকে। এমতাবস্থায় যৌথ টিমের পর্যাপ্ত সদস্য থাকায় তাৎক্ষনিক ভিকটিম উদ্ধার ও অপহরণকারী ইসমাইল আহমেদ ওরফে হারুন ও জুলমান আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এসময় অপহরণকারীচক্রের অপরাপর অজ্ঞাত ৫/৬ জন গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

এসপি জানান, যে এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে সে এলাকায় আমাদের একাধিক টিম অবস্থান করছিল। তাই সোমবার দুপুরে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়ার দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউছার দস্তগীরের নেতৃত্বে বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন চন্দ্র দেবনাথ পুলিশের ফোর্সসহ এবং জেলা গোয়েন্দার বিশেষ টিম ও র‌্যাবের একটি দল উক্ত অভিযানে অংশ নেয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই সুবোধ কুমার দত্তের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়লেখা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এর সাথে জড়িত অপরাপর সদস্যদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil