মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহে করোনা ভাইরাস কোভিড ডেডিকেডেট হাসপাতাল করার প্রস্তাবের বিপক্ষে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ৪.৫৩ পিএম
  • ৬২ বার পঠিত
মাহাবুব আলম (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ৮ম তলা ভবনকে করোনা ভাইরাস কোভিড ডেডিকেডেট হাসপাতাল করার প্রস্তাবের বিপক্ষে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছে সাধারণ মানুষ। বিতরণকৃত লিফলেটে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে। যার সাথে মিল রয়েছে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের একাংশ ও ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনসহ সচেতন মহলের যুক্তির।
জানা গেছে, নাগরিকদের যুক্তির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ময়মনসিংহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সদর-৪ আসনের এমপি বেগম রওশন এরশাদ। গত ২৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় মমেক হাসপাতালের নতুন আট তলা ভবনকে কোভিড হাসপাতাল করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠিও প্রেরণ করা হয়। তবে প্রস্তাবের বিপক্ষে হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ, উপ-পরিচালক ডা. লক্ষীনারায়ন মজুমদার, জেলা নাগরিক আন্দোলন সহ একাধিক সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্ব যুক্তি উপস্থাপন করেন। জেলায় কোভিড চিকিৎসার জন্য একাধিক যুতসই ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বহু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর চিকিৎসার সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাসহ প্রস্তুতকৃত নতুন ভবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে একটি চক্র কাজ করছে বলে মন্তব্য এসেছে। বিষয়টি ময়মনসিংহের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সচেতন মহলে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠলে আমজনতা এর বিপক্ষে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে নগরীর চরপাড়া একালায় কোভিড প্রস্তাবের বিপক্ষে একটি মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়। আহুত মানববন্ধনকে ঘিরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে মানববন্ধনটি পণ্ড হয়ে যায়। তবে প্রস্তাবের বিপক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, মমেক হাসপাতালকে নিজেদের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে একটি মহল সবসময়ই তৎপর ছিল। যাদের অতীত কার্যক্রম ময়মনসিংহের জনগণের কাছে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। তবে এই সিন্ডিকেটটি অনেকটাই নাজেহাল হয়ে পড়েছিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সদ্য সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিনের কঠোর অবস্থানের কারণে। সম্প্রতি তিনি বদলীজনিত কারণে নিজ বাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তার স্থলে নিযুক্ত হয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফজলুল কবির। সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রেক্ষিতে দুরারোগ্য ব্যাধি হার্টের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবার উপযোগী করে তৈরি করা হয় নতুন আটতলা ভবনকে। যেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। যেসব চিকিৎসা ময়মনসিংহের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করাটা সাধারণ জনগণের জন্য অনেকটাই অসম্ভব। “মন্তব্য চলছে সরকারি ভাবে এসব চিকিৎসা ব্যাহত হলে বেসরকারি হাসপাতাল গুলো এক্ষেত্রে লাভবান হবে। সরকারি হাসপাতাল সচল থাকলে তা সম্ভব নয়।”
সূত্র মতে, ” নগরীর সূর্যকান্ত (এস কে) হাসপাতালে যেখানে রোগীর ধারণ ক্ষমতা আছে তিন শতাধিক। বর্তমান রোগী ও সীটের সংখ্যা সেখানে মাত্র অর্ধশতাধিক। রোগীদের চিকিৎসা সেবা সেই সাথে খাদ্যের তালিকায় যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। এরপরও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিদিনই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিহিংসা। “তাদের দ্বন্দ্বের কারনে আত্মঘাতী সিন্ধান্তের প্রতিবাদে বড় ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচির আশঙ্কাও রয়েছে এই বিভাগের সচেতন নাগরীকদের মাঝে।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil