রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভৈরবে বিভ্রান্তিমুকল খবর প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বড়লেখায় খেলাফত মজলিসের তরবিয়তী মজলিস অনুষ্ঠিত বড়লেখায় মাওলানা জাফরী’র ইন্তেকাল মৌলভীবাজার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৫৮৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্রীমঙ্গল থেকে গরু চোর আটক: ৪ গরু উদ্ধার কুলাউড়ায় ১৭৮৫ পিস ইয়াবাসহ, র‍্যাবের হাতে আটক (১) জন ভৈরবে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৪ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম(এমপি) চিরদিন বেঁচে থাকবে জনসাধারনের মাঝে-চরফ্যাশন বিএমএসএফ এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ্য টাকা নিয়ে উধাও সিলেটের শাহজাহান প্রতারক গরিব অসহায় মানুষ আমার বন্ধু  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াছির উদ্দিন আহমেদ (কাওছার)

যুদ্ধ করেও মুক্তিযোদ্ধা নন ৮৬ বছর বয়সী আবু তাহের

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮.০৪ পিএম
  • ১৮৯ বার পঠিত

এম. শাহরিয়ার কামাল

প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর বালুরমাঠ যুবশিবিরে। সম্মুখযুদ্ধ করেছেন পাকিস্তানি পাক সৈন্যদের বিরুদ্ধে। যুদ্ধকালীন সময়ে বঙবন্ধুর সাথে একাধিক বার কথা বলেছেন।বঙবন্ধুর হাত থেকে নিয়ে বিস্কুট খেয়েছেন। বঙবন্ধুর গায়ের স্পর্শ পেয়েছেন অনেকবার। এমনকি মা বোনদের সম্ব্রম লুটে নেয়া কয়েকজন রাজাকারকে নিজ হাতে জবাই করেছেন।
তারপরও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি বলে অভিযোগ করেছেন কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের নবীগঞ্জ গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের পুত্র আবু তাহের।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আবু তাহের মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে চান। তার ভাষায়, তাহলে মরেও শান্তি পাবেন তিনি।

আবু তাহের ১৯৭১ সালে যুদ্ধের শুরুতে মেলেটারীতে চাকূরীরত আপন ভাতিজা ছেরাজল হকের সাথে দ্বীপ জেলা ভোলার নাছির মাঝি এলাকা থেকে পায়ে হেটে যুদ্ধের প্রশিক্ষন নিতে ভারতে পাড়ি জমান।
গাঁয়ে কাঁদামাটি জরিয়ে পাগলের ছদ্মবেশে কয়েকদিন হাটার পর ভারতের ব্যারাকপুর বালুর মাঠে পৌছান। সেখানকার যুবশিবির নিয়ন্ত্রন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলীর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন কৌশল ও ট্রেনিক নেন আবু তাহের।
সেখান থেকে ফিরে
জন্মস্থান ভোলায় এসে সরাসরি যোগ দেন যুদ্ধে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও স্বীকৃতি পাননি রণাঙ্গনের এ যোদ্ধা।

অভিযোগ রয়েছে ভোলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জৈনক এক ব্যক্তি টাকা চেয়েছিলেন নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি ৮৬ বছর বয়সী নুইয়েপড়া আবু তাহেরের।

একাত্তর পূর্ববর্তি ৩৬ বছরের টগবগে যুবক আবু তাহের সদ্য বিবাহিত নববধূকে ঘরে রেখে দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
৯ মাসের যুদ্ধ শেষে মাতৃভূমি স্বাধীনতার লাল সূর্য পেলেও এখনো ভাগ্যযুদ্ধে পরাজিত তিনি।

গ্রামের মেঠো পথের অলিতে-গলিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আমলা বিক্রি করে কোন ভাবে সংসার চলে তার। এ বুঁড়ো বয়সে কখনো রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দু’মুঠো আহারের ব্যবস্থা হয় তার। রোগাক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। বয়সের ভারে কূঁজো হয়ে পরা তাহেরের দু’চোঁখের আলো ও প্রায়টা নিভুনিভু।

এক কন্যা স্ত্রী সহ তিন সদস্য মিলে থাকেন পরের জায়গায়, কয়েকটি টিন দিয়ে একচালা একটি ঝুঁপড়িঘরে বসবাস তার। বাড়ির মালিক মানবিক বিবেচনায় বুড়ো আবু তাহেরকে পিতার সম্মানে দেখেন। কখনো কখনো চুলোতে হাঁড়ি ওঠার ব্যবস্থাও করে দেন। এভাবেই অণাহার আর অর্ধাহারে দিন কাটছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের।

আবু তাহের জানান,ভোলা জেলার নাছির মাঝি এলাকার তৎকালিন নকুম উদ্দিন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে খরকী ইউনিয়নে প্রতি ওয়ার্ড থেকে ১ জন করে ৯ ওয়ার্ডে ৯জন রাজাকারের তালিকা করা হয়। চেয়ারম্যানের করা ওই তালিকায় আবু তাহেরের নামও লেখা হয়। পরে বিষয়টি জানার পর আবু তাহের রাজাকার হতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান ও তার বানানো রাজাকাররা মিলে তাকে প্রানে৷ হত্যা করার হুমকি দেয়।এমনকি প্রতিদিন নব্য রাজাকারের দলেরা বাড়িতে এসে খুঁজে যেত।
অবশেষে জীবন বাঁচানোর তাগিদে আপন ভাতিজা ছেরাজলের সাথে
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যরাকপুর বালুর মাঠে প্রশিক্ষণ শিবিরে চলে যান তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে ভাতিজা ছেরাজল হক সহ চল্লিশ জন মুক্তিবাহীনি মিলে প্রথমে ভোলার খরকী এলাকায় তাবু গেঁড়ে কমান্ডার ছেরাজলের নেতৃত্বে ভোলার বিভিন্ন জায়গায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন আবু তাহের।

নিজের কষ্টের কথা বলেতে গিয়ে ৮৬ বছর বয়সী আবু তাহের দৈনিক ভোরের কাগজকে বলেন, ৭১-এ যুদ্ধ করেছি কিসের জন্য? আমলা বিক্রি করার জন্য? রিকশা-ভ্যান ঠেলা চালানের জন্য? আমার এ বয়স কি আমলা বিক্রি করার বয়স!’
ভেঁজা কন্ঠে আবু তাহের আরো বলেন,আমার বয়স ৮৬ বছর আর কতো বয়স হলে সরকার আমাকে একটা বয়স্কভাতার কার্ড করে দিবে! একটা বিজিডি কার্ড এমনকি ১০ টাকা মুল্যের চাউলের কার্ড পর্যন্ত আমার ভাগ্যে জুটলোনা। এজন্যই কি এতো কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করলাম! এটাই কি প্রতিদান?

কমলনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সফিক উদ্দীন বলেন, আবু তাহের একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে ট্রেনিং ও যুদ্ধ করেছে। অথচ তার তালিকাভুক্ত হতে না পারাটা খুবই কষ্টদায়ক।

এম.শাহরিয়ার কামাল
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
মোবাইল: ০১৭২৭৫৪৭৫২৩
তারিখ: ২৯-৯-২০২০

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil