মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০, ৭.০৬ পিএম
  • ১১৫ বার পঠিত

মোঃ আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধিঃ

ঈদুল আযহার বাকি আর ২০ দিন। ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে হাটে হাটে তোলা হচ্ছে কোরবানির পশু। কিন্তু এখনো সেভাবে শুরু হয়নি গরু-ছাগলের বেচাকেনা। করোনা দুর্যোগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে হাটগুলো। গরু কেনায় তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। হাটে সাধারণ ক্রেতাদেরও নেই ভিড়। করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে রংপুরে নয়টি অনলাইন পশুরহাট চালু করেছে প্রাণি সম্পদ দপ্তর। এতে তেমন সাড়া মিলছে না বলে দাবি অনলাইন নির্ভর খামারিদের। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরণের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। যদিও হাট ইজারাদার বলছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে ততোই গরু কেনাবেচা জমে উঠবে।

এ-দিকে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন পশুরহাটে নানামুখী তৎপরতাও শুরু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাপারি ও দালালরা হাটে হাটে আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর খোঁজখবর নিচ্ছেন। কেউ কেউ কম দামে কিনে বেশি লাভের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই হাটে গরু না নিয়ে বাড়ি থেকে বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও খামারিরা ঈদকে ঘিরে গরু মোটা তাজাকরণ শেষে এখন বিক্রির অপেক্ষা করছেন। রংপুরে গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাটে কথা হয় কয়েকজন খামারির সাথে। তারা জানান, এখন পর্যন্ত হাটে ক্রেতা ও ব্যাপারিদের তেমন আনাগোনা বাড়েনি। অনেকে হাটে এসে বাজার যাচাই করে দেখছেন। দেশী গরুর চাহিদা আছে তবে মিয়ানমার ও ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধের দাবি তাদের।

জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সব থেকে বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। তিন বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি লালন পালন করছেন রংপুর সদরের পাগলাপীর এলাকার খামারি শহিদুল। তিনি পরম আদরের গরুটির নাম রেখেছেন ‌’সুলতান’। ঈদকে ঘিরে সুলতান ছাড়াও বেশ কয়েকটি গরু লালন পালন করেছেন এই খামারি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন গরুই বিক্রি করতে না পারায় পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

শহিদুল ইসলাম জানান, সুলতানের ওজন প্রায় ১৫০০ কেজি। এর মূল্য হাঁকিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা। কয়েকজন ক্রেতা বাড়িতে এসে সুলতানকে দেখে ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম করেছেন। এতেও তিনি সুলতানের গলার দড়ি হাত ছাড়া করেননি। এ-দিকে শহিদুলের মত অনেক খামারি এখন করোনার সংক্রমণ আর চলতি বর্ষা মৌসুমে গরু বেচাকেনা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন। তারা বলছেন, গরু অবিক্রিত থেকে গেলে বা সঠিক বাজার মূল্য না পেলে হুমকিতে পড়বে জেলার খামারগুলো।

রংপুর ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আসিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন একেকটা গরুর পিছনে খাবারসহ অন্যান্য খরচ হয় চারশ থেকে এক হাজার টাকা। এই অবস্থায় যদি কোরবানিতে গরু বিক্রি করতে না পারি বা লোকসানে বিক্রি করতে হয়, তাহলে খামার ঠিকে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শুরহাট জমে না উঠার জন্য আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর বৈরি আবহাওয়ার পাশাপাশি করোনা ভীতিতে দুষছেন হাট ইজারাদার ও বিক্রেতারা। তারা বলছেন, ঈদের এক সপ্তাহ থেকে বিকিকিনি বাড়বে। তখন হাটে হাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ও থাকবে।

রংপুর নগরীর লালবাগ হাটের ইজারাদার আব্দুল সালাম জানান, তারা এই মাসের শুরুতেই কোরবানি ঈদকে ঘিরে হাট প্রস্তুত করে রেখেছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা আসছেন। কিছুটা জমে ওঠেছে হাট। তবে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এপরিস্থিতিতে অনলাইন মার্কেটিংকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে তারা রংপুর জেলায় কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য নয়টি অনলাইন পশুরহাট চালু করেছেন।

এব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা: মোহাম্মদ হাবিবুল হক জানান, করোনা সংকটে অনেক সচেতন মানুষ ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনের মাধ্যমে পশু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমরা সংকটময় পরিস্থিতিতে ফেসবুকে ই- মার্কেটিং পেজ খুলেছি। পশুরহাট নামে খোলা ওই পেজটি অনুসরন করতে পারেন খামারিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil