শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

রামগতি’তে ডিউটি ছাড়াই বেতন গিলছেন  ফুড কর্মচারী আতাউর : প্রধানকর্তা ও সহকারী কর্তার রামরাজত্বে চলছে খাদ্যগুদাম  (১মপর্ব)

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০, ১০.০১ পিএম
  • ১৮৭ বার পঠিত

শাহরিয়ার কামাল:  বাস্তবে কর্মস্থলে হাজির নেই তাতে কী! কাগজে-কলমে হাজিরা খাতায় তিনি শতভাগ উপস্থিত।আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মতোই অবলীলায় প্রতি মাসের বেতন গিলছেন।কর্মস্থলের দায়িত্বে থাকা বড় কর্তার যোগসাজসে প্রায় বছর ধরে চলছে যাদুকরী ভেলকী।তবে মাসিক  বেতনের প্রায় অর্ধেকটাই ভোগ করেন ওই অফিসের গুণধর কর্তাবাবু।তিনি হলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা খাদ্যগুদাম (ফুড)অফিস উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান।তার বিরুদ্ধে ডিউটি না করে বেতনভাতা উত্তোলনের গুরুতরো অভিযোগ উঠেছে।ওই অফিসের কর্মকর্তা এ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রামগতি উপজেলা খাদ্যগুদামের উপসহকারী পদে চাকুরী করছেন নোয়াখালী সদরের বাসিন্দা আতাউর রহমান। দায়িত্বের শুরু থেকেই তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে মাসের শেষের দিকে কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সাক্ষর করেন, বেতনও উত্তোলন করে নেন।আর এসব অনিয়ম কর্মকান্ডে তাকে সাহায্য করছেন ওই অফিসেরই বড় কর্তা। প্রধান কর্তা ও সহকারী কর্তার রামরাজত্বে ওই অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।মৌন প্রতিবাদ করলেও হতে হয় নানা হয়রানী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের এক কর্মচারী জানান,আতাউর রহমান নিজেকে নোয়াখালীর জনৈক এক মুক্তিযোদ্বার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে মাসের পর মাস অফিস না করেই বেতনভাতা সহ সরকারে অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তাছাড়া অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।এতে অন্য কর্মকর্তাদের উপর ব্যাপক চাপ ও সৃষ্টি হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো জানান, এ অফিসের প্রধান কর্তার যোগসাজস ছাড়া এহেন কর্মকান্ড কিভাবে ঘটে? তবে আতাউরের মনগড়া অফিস আর জনৈক মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙ্গিয়ে অফিসে প্রভাব খাটানোর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে উল্টো গালমন্দসহ নানা কটুকথা শুনতে হয়।কারন আতাউরের উপরে হাত আছে! মানে জনৈক ঐ মুক্তিযোদ্বার নামের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কর্তা নিজেও ফিকির করছেন তার সহকারী কর্তার। বড় কর্তা…. আর সহকারী ছোট কর্তা আতাউরের যোগসাজেস যেন রাম রাজত্ব্কেও হারমানায়। কেউ একজন ফিস-ফিসিয়ে বলছিলেন, ছোট কর্তা আতাউরের বেতনের অর্ধেকটা বড়বাবু নুরুল আফসার খুব সতর্কতার সহিত ভাজ করে পকেটে রাখেন।ফলে বাড়তি উৎকোচ পেয়ে ছোট কর্তা আতাউরের বছর ধরে অফিস ফাঁকির বিষয়টা নিরবে গিলে হজম করেন তিনি।আর আওয়াজ হয়নি বলেই আতাউর ঘটিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন অপরাধের এসব তুঘলকী কান্ড। প্রায় বছর ধরে অফিস না করে কিভাবে একজন কর্মচারী বেতবভাতা ভোগ করেন তা নিয়ে চলছে খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড়।

সামান্য একজন কর্মচারীর নিকট কর্তা নুরুল আফসার বাবু এতোই অসহায়! আর কর্মচারী আতাউর রহমানের এতো বিশাল ক্ষমতা! ডিউটি না করেই মাস শেষে পাচ্ছেন বেতনভাতা।যার কারনে মাইজদী শহর ছেড়ে হয়তো রামগতির মতো চর এলাকায় তার প্রতিদিন আসাটা বেমানান! তাই অনেকটা আয়েশী বেশেই তিনি মাসে একবার এসে কষ্ট করে শুধু বেতন উত্তোলন করেন।অত:পর সামনের মাসের শেষের দিনটা আবার কবে আসবে এমন অংকটাই কষেন তিনি।

ডিউটি না করে বেতন উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আতাউর রহমান সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নানা অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালমন্ধ শুরু করেন।তার না কি বিশাল ক্ষমতা রয়েছে। এ বিষয়ে তার উর্ধতন কর্মকর্তা রয়েছে তারা দেখবেন।সাংবাদিকদের জানার কোন প্রয়োজন নেই বলে নানান ধরনের হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন।

সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন একজন বিকৃত মস্তিস্ক ও লম্পট প্রাকৃতির লোক কি করে সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ন জায়গায় চাকুরী করেন? তিনি কি আইনের উর্দ্ধে? আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ করেন?

জেলা ফুড কর্মকর্তা বরাবর জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি আমার জানার বাহিরে। তদন্তপূর্বক সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রামগতি খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল আফসার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে অফিসে গিয়ে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মোমিন জানান বিষয়টি আমার জানার বাইরে।আমি খবর নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বি:দ্র: সীমাহীন দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত রামগতি খাদ্যগুদামের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে চোখ রাখুন ২য় পর্বে

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil