বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

লন্ডনে বিএনপি,খুলনায় আওয়ামীলীগ: গড়েছেন টাকার পাহাড়

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০, ৮.০০ পিএম
  • ২১৬ বার পঠিত

রূপান্তর বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক:-  

খুলনার তেরখাদা থানার বারাসাত গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিএনপির নেতার ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাসাদসম বাড়ি নির্মাণ নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন। মোট ৭০০০ বর্গফুটের এই দুতলা বাড়ির ছাদে রয়েছে ২০০ বর্গফুটের সুমিং পুল। গত ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির প্রায় ৭০% কাজ শেষ হয়েছে এবং আনুমানিক এই পর্যন্ত ৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে বাড়ির কন্ট্রাক্টর জানিয়েছেন। আর এই বাড়ি নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। যুক্তরাজ্যে বিএনপির কর্মী হিসাবে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা এই নেতার নাম পারভেজ মল্লিক। বাবার নাম মজিদ মল্লিক, যিনি স্বাধীনতার পর পর মুজিব বাহিনীতে যোগদেন এবং এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েম করেন। ফলে তাকে মজিদ ডাকাত হিসাবেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করার প্রক্রিয়া হিসাবে মুজিব বাহিনীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে একীভূত করায় সে একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসাবে যোগদান করে এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসাবে অবসর গ্রহণ করে। মজিদ মল্লিক সারা জীবন একজন আওয়ামীলীগের সমর্থক হিসাবেই এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। শুধু তাই নয়, মল্লিক পরিবারের সবাই আওমী রাজনীতির সাথেই জড়িত। পারভেজ মল্লিকের আপন মামা রসুল শেখ তেরখাদা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং মামাতো ভাই লালিম শেখ বর্তমানে এলাকার দাপুটে যুবলীগ কর্মী। অথচ এই লালিম শেখ বিএনপির আমলে থানা কমিটিতে ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০০৯ সালে পট পরিবর্তনের সাথে সাথে আওয়ামীলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার গলায় মালা দিয়ে আওয়ামীলীগার বনে যান।পারভেজ মল্লিকের আর এক মামা আলী শেখ। তার বড় ছেলে গোলাম মোস্তফা আওয়ামীলীগের থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। গোলাম মোস্তফার মৃত্যর পর তার স্ত্রী বর্তমানে আওয়ামীলীগের মহিলা মেন্বার এবং মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী। আর এক মামাত ভাই সেলিম শেখ যুব লীগের থানা কমিটির সহ সভাপতি।ফলে এলাকায় আওয়ামীলীগের দাপটেই পারভেজ মল্লিক বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর চড়াও হয়েছেন। সেই মজিদ মল্লিকের ছেলে পারভেজ মল্লিক ১৯৯৬ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পেরে দ্বিতীয়বার বিশেষ কোটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের আওয়ামীলীগ সমর্থিত শিক্ষক এনাম আহমেদ এর সহায়তায় ভর্তি হন এবং প্রথম বর্ষ থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময়ে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা সেঞ্চুরি মানিকের বিশ্বস্ত সহচর হিসাবে ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। মূলত চাঁদাবাজি এবং রাতে গার্মেন্টস কর্মীদের ধর্ষণ করে ছিল এই গ্রূপের প্রধান কাজ। ১৯৯৮ সালে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সেঞ্চুরি মানিকের ক্যাম্পাস ত্যাগের সাথে সাথে পারভেজ মল্লিকও ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন এবং দীর্ঘ একবছর পর সেঞ্চুরি মানিকের আরেক সহচর ছাত্রলীগ নেত্রী ও তৎকালীন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী মাহবুবা নাসরিন জেবিন এর সহায়তায় আবার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আর সক্রিয় হতে না পেরে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আঁচ করতে পেরে ধীরে ধীরে ছাত্রদলের সাথে মেলা মেশা শুরু করেন। তৎকালীন ছাত্রদল নেতা আজিজুল বারী হেলালের সাথে এলাকার ছেলে হিসাবে সক্ষতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ছাত্রনেতা আজিজুল বারী হেলাল ২০০২ সালে তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি করে কমিটি গঠন করে দেন। সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েই ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে। তার মধ্যে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে বেগম খালেদা জিয়া হলের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে হলের প্রভোস্ট এবং বিএনপি ঘরনার দর্শন বিভাগের শিক্ষক কামরুল ইসলামের সহায়তায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আয় করে। তাছাড়া পুলিশে নিয়োগ থেকে শুরু করে বিসিএস এর মৌখিক পরীক্ষায় উতীর্ণ করার প্রতিশ্রুতিতে শত শত ছাত্রদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই ছাত্র নেতার নামে। একই সাথে ছাত্রলীগের সভানেত্রী জেবিনের প্ররোচনায় ছাত্রদলের অনেক নেতা কর্মীদের মারধর করা এবং হলথেকে বের করে দেয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। পারভেজ মল্লিকের ছত্রছায়ায় তৎকালীন ছাত্রলীগ বীরদর্পে ছাত্র রাজনীতি করার সুযোগ পায় অথচ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি দূরে থাকুক, বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোকার অনুমতিও ছিল না। তৎকালীন প্রতিটি ছাত্রদল নেতার নামে একাধিক মামলা করে তাদেরকে প্রতিনিয়ত পুলিশী হয়রানির শিকার হয়ে পালিয়ে থাকতে হতো , অথচ এই নেতার নাম কখনো কোন মামলা হয়েছে বলে কারো জানা নেই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার ভাগ্যের দরজা খোলে যায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কিছু নেতাদের ম্যানেজ করে একচেটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লোটপাট চালায় এবং তাকে সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন এবং ছাত্রলীগের সেই সভানেত্রীকেই বিয়ে করেন। অবস্থার প্রেক্ষাপটে আবারো রূপ পরিবর্তন করে বিএনপি-এর তৎকালীন মহাসচিব এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার সাথে যোগ দেন সংস্কার বাদী হিসাবে। তার বাসার বাজার থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজ করে তার আস্থা অর্জন করে। ফলে সেই সময়ে ২০০৭ সালে তাকে পল্টন পার্টি অফিসের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিটিয়ে লাঞ্চিত করে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহাসচিব পদ এবং দল থেকে মান্না ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করলে আবার বিএনপি নেতা রকিবুল ইসলাম বকুলের কাছে যাতায়াত শুরু করে এবং তাদের সহযোগিতায় সেচ্ছাসেবক দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেয়। এভাবে একটু বিরতি দিয়ে আবার বিএনপিতে পুনর্বাসিত হয়। ২০১০ সালে তার স্ত্রী সাবেক ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাহবুবা জেবিন, ইংলেন্ডের ইমিগ্রেশন এর শিথিলতায় লন্ডনের একটি ভিসা কলেজে ভর্তি হয়ে লন্ডনে চলে আসলে তার ডিপেন্ডেন্ট হিসাবে লন্ডনে পাড়ি জমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil