শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

শুভাকাঙ্খীর ছদ্মবেশে যারা ‘মিসগাইড’ করছে প্রধানমন্ত্রীকে

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০, ৫.৪৭ পিএম
  • ৫৪ বার পঠিত
রূপান্তরবিডি নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের কথার সুর ধরে মনের মধ্যে একটা কথা বাজছে। মনে হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অমাবস্যার রাতে হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে গভীর গিরিখাদের উপর দিয়ে চিকন সুতর উপর দিয়ে হাঁটছেন। একটু বেখেয়াল হলেই চরম সর্বনাশের নিশ্চিত সম্ভাবনা। যারা ১৯৭১ দেখেছেন, তারা এতে ভয় পান না। কারণ বঙ্গবন্ধুও এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে তাঁর সময়কাল অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু তার সাথে বঙ্গবন্ধুকন্যার একটু পার্থক্য আছে তা হলো বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সমস্ত তথ্য থেকে অন্ধকারে রাখা হতো, নেমকহারামরা এটা করতে পারতেন, কিন্তু এখন তারা পুরোপুরি তা পারেন না। গত কয়েকদিনের ঘটনা দেখে এটা মনে হয়েছে।
একটা মিডিয়ায় খবর এসেছে যে, করোনা ভাইরাসের ডামাডোলে এবং সমন্বয়হীনতার ঘোলাজলে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন আবার সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে এবং বাধাহীনভাবে। হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি তাদের মারকাজের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এই ব্যক্তি মারকাজের স্বেচ্ছাসেবায় গাড়ি, জ্বালানি সুবিধা দিয়েছেন। অনেকে খেয়াল করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যদি কেউ সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান, তাহলে তিনি অকপটে সব সত্যি বলে দেন এবং প্রধানমন্ত্রীও তখন বাস্তব চিত্রটি পান, যা তিনি সচরাচর পান না। প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে পেলেন গাজীপুরের এসপির কাছ থেকে। কিছুদিন আগে পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের একজন মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে। তিনি এসব শুনে হতবাক হয়েছিলেন। ওনার কথায় মনে হচ্ছিলো যে, ওনাকে যা জানানো হয়েছিলো তা ভুল বা অ’সত্য ছিল। ভাবতেই ভাল লাগছে, ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের কিছু মানুষ দিন দিন সাহসী হয়ে উঠছেন! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় টের পাচ্ছেন, ওনার চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চ্যালা-চামুণ্ডারা ওনাকে প্রতিনিয়ত মিসগাইড করে বা অ’সত্য তথ্য দিয়ে সত্যকে গোপন করেন? উনি ঠিক বুঝতে পারছেন যে, এতে দেশ কত পিছিয়ে যাচ্ছে এবং ওনাকে প্রতিনিয়ত ঠকানো হচ্ছে! অনেকেই জানেন যে, উনি বিষয়গুলো হালকাভাবে না নেন।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ প্রয়াত এক সাংবাদিক যিনি ১৯৭৫ সালে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ছিলেন তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর শেষ আমলে যখন আব্দুল মান্নান সাহেব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন তিনি গণকন্ঠ আর পূর্বদেশের খবর দেখে একদিন বললেন, তিনি গ্রামে যাবে নিজে সব দেখতে। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন যে তিনি বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার জন্য সাথে পুলিশ না রক্ষীবাহিনী দেবেন। এতে বঙ্গবন্ধু খুব হতবাক হয়ে বলেন, ‘গণকন্ঠ আর পূর্বদেশের’ সব তাহলে মিথ্যা নয়! প্রথম আলো শিরোনামে লিখেছে, ‘গাজীপুরে চিকিৎসার জন্য একটি শয্যাও প্রস্তুত নয়।’ অথচ এই হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি সাধারণ হাসপাতাল যা ইতিমধ্যেই চালু ছিল। এই হাসপাতালটি নতুন করে তৈরি হয়নি। এই হাসপাতালটিকে ‘সাধারণ হাসপাতাল’ থেকে করোনা আক্রা’ন্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য ‘ডেডিকেটেড’ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে মাত্র। যেহেতু করোনা রোগী চিকিৎসার জন্য সাধারণ হাসপাতালের তুলনায় জনবল বেশী লাগে, তাই জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজও চলছে। এখানে বর্তমানে জনবলের অভাব আছে, কিন্তু তার মানে এ নয় যে একটি শয্যাও প্রস্তুত নয়। এখন যে জনবল আছে তাতে ১০০ রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব, যা প্রথম আলোর রিপোর্টটির ভিতরেই বলা আছে। কাজেই প্রথম আলোর শিরোনামটি তার ভিতরের তথ্যের সাথেই সাংঘ’র্ষিক।
জনবল বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শেষ হলে এখানে ৫০০ করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। প্রথম আলোর মতো একটি স্বনামধন্য পত্রিকার কাছে জাতির এই মহা দুর্যোগের মুহূর্তে এধরনের বিভ্রান্তিমূলক রিপোর্ট আশা করেনা দেশবাসী। এমন তথ্য দিলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং দুর্যোগ মোকাবেলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এই পত্রিকাটি প্রায় প্রতিদিন এক দুইটা নিউজ টুইস্ট করে বা মিথ্যা বা অর্ধ্বসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু এ মিথ্যাচার দেখার কেউ কি নেই সরকারে? সেটা ভাবলেই অবাক লাগে। গণভবনের ঘনিষ্ঠ একজন অভিযোগ করেন, সেখানে অবস্থিত সেন্ট্রাল রিসিভ সেকশন থেকেই অনেক জরুরী ডকুমেন্ট হারিয়ে যায়। যার জন্য প্রধানমন্ত্রী সঠিক সময়ে আসল খবরটি পান না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে জিয়াউর রহমান একজন খুনি! কিন্তু প্রথম আলো বিএনপি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রালয় এখনো জিয়াউর রহমান শহীদ বলে! এগুলো কি মুখ ফসকে বলে না অন্য কিছু! সর্ষের মধ্যেই কি একাধিক ভুতের বসবাস!

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil