বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

সিলেটের সাবেক মেয়র কামরানের মৃত্যুতে নরসিংদির তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি’র শোক প্রকাশ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ১.৫৪ পিএম
  • ৮৩ বার পঠিত
মো রফিকুল ইসলাম রফিক : সিলেটের সাবেক মেয়র কামরান মৃত্যুতে নরসিংদির নারী সাংসদ তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোক বার্তায় তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে কাঁদছে নগরবাসী। এ নগরের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সাথী ছিলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের জন্য মানবিক হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কামরান।এই দুর্দিনে তিনি করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন জেনেও অসহায় মানুষদের বাড়িতে নিজে খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে গেছেন। অবশেষে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয় ২০০২ সালের ২৮ জুলাই। বিলুপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে নবগঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র করা হয়। এর পর ২০০৩ সালের ২০ মার্চের নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে তৎকালীন সরকারি দল বিএনপির প্রার্থী এমএ হককে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সিলেটের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৭৩ সালে সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান। ওয়ান ইলেভেনের সময় জেলে থেকেও কামরান বিএনপির প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম এ হককে ফের পরাজিত করে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে যান তিনি। এরপর ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনেও আরিফের কাছে হেরে যান কামরান। কিন্তু এরপরও তিনি নগরবাসীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। এ নগরের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি পাশে ছিলেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি দুইবার মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। কিন্তু ২০১৩ সালে নিজ দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিরোধী দলের প্রার্থীর কাছে পরাজয় মেনে নিতে হলো সাবেক জনপ্রিয় এই মেয়রকে। একটানা কয়েক বছর ক্ষমতার ধারাবাহিকতায় আকস্মিক এই হোঁচটকে তবুও ব্যক্তি কামরানের পরাজয় বলে দেখেননি সিলেটের কামরান অনুরাগীরা। তারা মনে করতেন, সিলেটের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতের সকল অভিজ্ঞতা নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়রকে সহযোগিতা করবেন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট সিটি করপোরেশন উন্নীত হওয়ার পর ২০০২ সালের ২৮ জুলাই তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৭ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেফতার হন কামরান। এক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর ২৮ মে তিনি আবার গ্রেফতার হন। ওই মাসে কারান্তরীণ হন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার কথা শোনা গেলেও পরে তা হয়নি। অবশেষে তার নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত হয় ৫০১ সদস্য বিশিষ্ট নাগরিক পরিষদ। কারাগারে থেকে ২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি আবারও ইতিহাস গড়েন। তখন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৮৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সে সময় মেয়র কামরান সবমিলিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ ফ ম কামাল ৩২ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি পদে ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের অপূরনীয় ক্ষতি হলো। এতে আমরা নরসিংদী সহ দেশ বাসী তার মৃত্যুতে শোকাহত। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের নসিব করুন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil