রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

হাকালুকি হাওড়ে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০, ২.৫৮ এএম
  • ১৫৩ বার পঠিত

মো জাকির হোসেন, জুড়ী মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওড় হাকালুকিতে আবারো জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। এমন খবরে মহাখুশি হাওড় পাড়ের জেলে সম্প্রদায়, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গেলো কয়েকদিন থেকে স্থানীয় কয়েকটি বাজারে অন্যান্য মাছের সাথে পাওয়া যাচ্ছে হাকালুকির মাঝারি ও ছোট ইলিশ।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী পানিবদ্ধতার পর হাকালুকি তার আপন গতি বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ ছিলোনা। কারণ, ওই বছরের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী পানিবদ্ধতায় বোরো ধান পঁচে পানি দূষিত হয়ে হাওড়ের মাছ, হাঁস, জলপ্রাণী ও উদ্ভিদ মারা যায়। এমন দুর্দিন যাওয়ার পর হাকালুকি তার গতি প্রকৃতিতে ফেরা নিয়ে দেখা দেয় দুশ্চিন্তা। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে হাকালুকি ফেরে তার চিরচেনা স্বরূপে। ওই বছরের শেষের দিকে হাকালুকি হাওড়ে আশানুরূপ উৎপাদন হয় মাছ, উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণির। কিন্তু হাওড়ের বিলগুলোর নাব্য হ্রাসসহ নানা সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারাতে বসে তার ঐতিহ্য।

বিশেষ করে অবাধে পোনা ও মা মাছ নিধন। নানা কৌশলে সেচ দিয়ে মাছ ধরা। মৎস্য বিভাগের তরফে সময়ে হাওড়ে পোনা ছাড়া। আর হাওড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য উজাড় এ যেন স্থানীয়দের নিত্যদিনের কর্মকা-। নানা কারণে এখন ধ্বংসের দোড়গোড়ায় হাকালুকি। নাব্যহ্রাসের কারণে এখন বোরো হাওড়ে বর্ষায় ধারণ ক্ষমতার উপর থৈ থৈ পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পানিহীন ধূধূ মরুভূমি। এ কারণে চরম ঝুঁকিতে হাওড়ের মিঠা পানির মাছসহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। ইতোমধ্যেই হারিয়ে গেছে নানা জাতের দেশীয় মাছ, জলপ্রাণি ও উদ্ভিদ। বিশেষ করে রাণী, আইড়, শউল, গজার, বাঘাগুত্তম ও ইলিশ মাছ ছিল হাকালুকি হাওড়ের ঐতিহ্য।

এক সময় সুস্বাদু এ মাছগুলো সব সময় হাওড়ে জেলেদের জালে ধরা পড়তো। কালের পরিক্রমায় এখন যেনো তা অনেকটাই বিলুপ্ত। গত কয়েকবছর থেকে অল্প করে হলেও হাকালুকি হাওড়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। এ বছর গত কয়েকদিন থেকে অন্যান্য বছরের চাইতে বেশি ধরা পড়ছে ইলিশ। দীর্ঘদিন পর ইলিশ উৎপাদনে হাকালুকি হাওড় ঐতিহ্য পথে ফেরায় বেজায় খুশি সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য বছর মাঝে মধ্যে ইলিশের দেখা মিললেও এই বছর তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও হাওড় পাড়ের জেলেরা। হাকালুকি হাওড়ের আশ-পাশের বাজারগুলোতে মাঝারি এবং ছোট সাইজের ইলিশ অন্যান্য মাছের সাথে বিক্রি করছেন স্থানীয় মাছ বিক্রেতারা। জেলেরা জানান, এ ইলিশ সাগরের ইলিশের মতো ঘ্রাণ কিংবা স্বাদ না হলেও ক্রেতাদের চাহিদা প্রচুর। দামও পাওয়া যায় ভালো। জুড়ী উপজেলার তেঘরিঘাট, কন্টিনালা, নয়াগ্রাম, খালের মুখ, খাগটেকা এলাকায় হাকালুকি হাওড়ের মাছ বিক্রেতাদের কাছে গেলো ক’দিন থেকে মিলছে ইলিশ।

বিক্রেতারা জানান, হাওড়ের ভাসমান পানিতে এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। ওই স্থানের মাছ বিক্রেতারা জানান, জেলেরা হাকালুকি হাওড়ের অন্যান্য মাছের সাথে তাদের কাছে ইলিশও বিক্রি করছেন। “হাওড় বাচাঁও, কৃষক বাঁচাও” সংগ্রাম কমিটি কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা জানান, আগে সবসময়ই হাকালুকি হাওড় ও কুশিয়ারা নদীতে বড় বড় ইলিশ ধরা পড়তো। এখন নতুন করে হাওড়ে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে। বুড়ি কেয়ারী বাঁধ হওয়ার পর ইলিশের উৎপাদন হচ্ছেনা। বুড়িকেয়ারী বাঁধ অপসারণ ও নদী হাওড়ের বিলগুলো খনন হলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছেরও উৎপাদন বাড়তো। আর রক্ষা পেতো মহাহুমকিতে থাকা নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil