রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

কুকুর পাহারা দিচ্ছে অসহায় বৃদ্ধাকে

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০, ৯.০১ এএম
  • ১৮১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : আশেপাশে কোনো মানুষ নেই। রাস্তার পাশে পড়ে আছেন এক বৃদ্ধা। একদিন দুইদিন না, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে পড়ে আছেন সহায় সম্বলহীন, অসহায় এই বৃদ্ধা। বৃদ্ধার দিকে এগিয়ে আসেনি কোনো সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ কিংবা প্রশাসনের কোনো কর্তাব্যক্তি। পাশে রয়েছে একটা কুকুর। কুকুরটি যেন বৃদ্ধাকে আগলে রেখে পাহারা দিয়ে চলেছে। করোনার মধ্যে সবাই সামাজিক দূরত্ব না মেনে নিয়মের তোয়াক্কা না করে বাজার করতে, আড্ডা দিতে বের হতে পারছেন অথচ অসহায় এই বৃদ্ধার দিকে তাকানোর মতো সময় কারো নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারে বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বৃদ্ধার মাথার কাছে একটি কুকুর বসে আছে। কুকুরটি মাঝে মাঝে তার জায়গা বদল করে কখনও বৃদ্ধার পায়ের কাছে, কখনও পেছন দিকে, কখনওবা বৃদ্ধার সামনে বসে সময় কাটাচ্ছে। যেন বৃদ্ধাকে পাহারা দিচ্ছে কুকুরটি।

স্থানীয় সাংবাদিক সুরজিৎ সরকার বৃদ্ধার কাছে গিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কোন কথা বলতে পারেননি। দেখে বোঝা যাচ্ছিল তার শরীরে কথা বলার মতো শক্তিটুকুও নাই। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি জানান, আগে এই বৃদ্ধার ব্যাপারে তিনি কিছু শোনেননি।

মাধনগর ইউনিয়নের ৫নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমেনাকে বিষয়টি জানালে তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, ‘এ-তো পাগল। অনেক দিন হলো এই মহিলা স্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করে।’

পাগলের কি এই রাষ্ট্রে বাঁচার বা নাগরিক সুবিধা পাবার অধিকার নেই?-এমন প্রশ্ন করলে কাউন্সিলর মোমেনা চুপ করে থাকেনে। পরে খবর পেয়ে বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার জয়নাল আবেদিন ডলার।

বৃদ্ধার এমন অসহায়ত্বের খবর জেনে জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil