শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভৈরবে তেয়ারীরচরে এডভোকেট আবুল বাসারের নির্বাচনী গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নবাসীর সাথে সরকার সাফায়েত উল্লাহ’র নির্বাচনী মতবিনিময় সভা ভৈরবে ৩ প্রতিষ্টান সিলগালা ৬০ লাখ টাকার জাল ধ্বংস বড়লেখা ফাউন্ডেশন ইউ কে উদ্যোগে আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠান শয়তানের চ্যালেঞ্জ ও আল্লাহর ক্ষমার নমুনা ভৈরবে র‌্যাবের হাতে ভারতীয় ৫ লক্ষাধিক ট্যাবলেট ও ৯৭ পিস ভারতীয় কাতান শাড়ী উদ্ধার ভৈরবে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরন লক্ষ্মীপুরে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ দেবরের বিরুদ্ধে বড়লেখা পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন বড়লেখা মানবসেবা সংস্থার উদ্যোগে সিলিং ফ্যান বিতরণ

একজন মানবিক পুলিশ অফিসার এস আই পিন্টু লাল দাস

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২০, ১১.০৫ এএম
  • ৪৯৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সময়ে সময়ে আলোচনা-সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশি মুখরোচক হয়ে ওঠে। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারা যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তা আমরা ভুলে যাই। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করি আমরাই। তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে হাজারো এস আই পিন্টু লাল দাস। যারা সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার মতো মানবিক কাজগুলোও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।

মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে—তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।এমনটাই মনে করেন, এসআই পিন্টু লাল দাস। দুস্থদের পাশে , অসহায়দের মুখে খাবার, তুলে দেওয়া যেন এটা তার নেশা।

প্রত্যেকদিনই এই মহামারীতে কোন না কোন অসহায়, দুস্থদের পাশে দাড়াচ্ছেন তিনি।আর এই মুহুর্তে তিনি মধ্যবিত্ত পবিবারের কাউকে রাতের আধারে, আবার কাউকে মোবাইলে সাহয্যে করে যাচ্ছেন।এযেন অনেকটা নীরবে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চলমান সাধারণ ছুটিতে এখন বন্ধ তার আয়ের পথ। বিধবা বোন, বোনের দুই সন্তান সহ চার সদস্যের পরিবারে নেই কোনো জমানো টাকা, নেই খাবার। এমন সময় তার প্রতি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কেশবপুর থানার এসআই পিন্টু লাল দাস।

১৫ দিনের খাবার পৌঁছে দেন।

সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত খুবই কম। সমাজের বিত্তবান মানুষেরা যদি এমন একটি করে গৃহহীন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে আর গৃহহীন কোনো মানুষ থাকবে না।

এছাড়াও আরোকটি সংবাদ প্রকাশের পর এক অসহায় নারী আনুয়ারা খাতুনের পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। খাদ্যসামগ্রী কিনে ওই নারীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

তার পাঠানো টাকা দিয়ে আজ ওই পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। সাহায্যের তালিকায় ছিল, চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ, চিনি, লবণ, চিড়া, সাবান সহ কাঁচা সবজি।

আনুআরা খাতুন বলেন, এই খাদ্যে আমারে অনেকদিন চইলে যাবিনি। খুউব খুশি হইছি। দোয়া করি যারা আমাক এভাবে সাহায্য কইরলো, তাগারে আল্লাহ যিন ভাল করে।

পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। সাহায্যের তালিকায় ছিল, চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, চিনি, লবণ, চিড়া, সেমাই ও ইফতার সামগ্রী।

প্রতিক্রিয়ায় ইমন সরদার বলেন, পরিবারে ৮ সদস্যের মুখে খাবার দিতে আমাকেই রোজগার করতে হয়। গত এক মাস ধরে কোনো কাজ করতে যেতে না পেরে একদম অসহায় জীবন পার করতেছিলাম আমরা। ঘরে কোনো খাবারই ছিল না। আজকের এই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়ে সাহায্য সহযোগীতা করল আল্লাহ যেন তাদের মঙ্গল করেন।

এইভাবে শত শত মানুষকে তিনি নীরবে দায়িত্বের বাহির গিয়ে মানুষকে সাহয্যে করে আসছেন, এখনও চলমান।

এম্পর্কে তিনি বলেন,একজন মানুষ, মানুষের জন্যই। বিপদে-আপদে, সমস্যা-সংকটে ছুটে এসে সাহায্য করবে—এমন প্রত্যাশা মানুষ মাত্রই করতে পারে। মানব জীবনের সম্পূর্ণতা আর তৃপ্তির জন্য সমাজের অসহায়-পীড়িতদের জন্য কিছু করা দরকার। আমাদের সবারই সুযোগ রয়েছে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার।

আমি, আপনি, সে এভাবেই এগিয়ে আসতে পারি সকলেই। দাঁড়াতে পারি বিপদে মানুষের পাশে। আসুন এই মহামারীতে যারা দুস্থ অসহায় মধ্যবিত্তদের পাশে এসে একটু সাহায্যের হাত প্রসারিত করি—ভুপেন হাজারিকার সেই অমর গানের মতোই…মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য,একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না,ও বন্ধু।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil