শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

বড়খেরীতে উপজেলা আ’লীগ নেতার পরিবারের উপর মুন্না বাহিনীর হামলা ও থানায় মামলা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ মে, ২০২০, ১১.০৬ এএম
  • ৮১ বার পঠিত

রামগতি সংবাদদাতাঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শামছুন্নাহারের স্বামী ও উপজেলা আওয়ামী লীগ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফারুকের পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যদের উপর হামলা ও বসতঘর লুটপাটসহ তান্ডব চালানো হয়েছে। ২৮ মে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় খেরী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মুন্সি বাড়ীর ভিতরে ও সামনে সংঘটিত এমন হামলা ও তান্ডবের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন আহত নারীসহ আরো ৯ জন। এ ব্যাপারে বড়খেরী ইউনিয়ন যুবলীগ আহ্বায়ক ও ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শামছুদ্দোহা মুন্না ও তার বাহিনীর ৬০ সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১১/২০ তারিখঃ ৩০/০৫/২০২০

মামলার এজাহার,এলাকাবাসী ও বাদী মোঃ ফারুক হোসেন সূত্রে জানা যায়, উত্তর বড়খেরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ, বিগত ইউপি নির্বাচনে মিরাজের পরিবর্তে চেয়ারম্যান পদে মিজানের সমর্থন করা ও আগামী ইউপি নির্বাচনে অত্র ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে মুন্নার সাথে মোঃ ফারুকের প্রতিদ্ধন্ধিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে মুন্না বাহিনীর প্রধান মুন্নার সাথে মোঃ ফারুক ও তার বাড়ীর লোকজনের বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের অংশ হিসেবে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মুন্না তার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড চর রমিজের নুর ইসলাম ও বড় খেরীর আনোয়ার হোসেন খাঁনের নেতৃত্বে মোঃ ফারুকদের উপর অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা করে। এতে আহত হয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে বাধ্য হয় মোঃ ফারুকের স্বজন সফিক উদ্দীনের পুত্র  মোঃ জামাল,মোঃ কাজলের পুত্র মোঃ আজগর, মোঃ লিটনের পুত্র আফছার, ইব্রাহিমের পুত্র মোঃ সুমন, মহিউদ্দীনের পুত্র মোঃ লিটন, চৌধুরী আলমের পুত্র মইন উদ্দীন, সৈয়দ আহম্মদের মেয়ে আছমা বেগম। রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের ভর্তি রেজিঃ নং- ১০৫৮/৫,১০৫৯/৫,১০৬০/৬, ১০৬০/৭,১০৬১/৮,১০৬২/০৯,
১০৬৩/১০১০৬৪/১১। এদের মধ্যে হাতে কোপ পড়া আছমা বেগমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, মুন্নার বাহিনীর সদস্য  ডাকাত হিসেবে পরিচিত নুর ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন খাঁনের নেতৃত্বে বাড়ীর নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানী, গলার চেইন ছিনতাই ও আলমিরা থেকে অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করাসহ এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।
এদিকে ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা শামছুদ্দোহা মুন্না ও তার বাহিনী এখন রামগতির মুর্তিমান আতংক। মুন্না ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে রামগতি থানায় হত্যা চেষ্টাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার মামলা বিচারাধীন বলে থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। মামলা নং-৫/২০,তারিখঃ ১০/৪/২০২০, এই মামলার বাদী একই গ্রামের আবুল হাসেমের স্ত্রী জান্নাত বেগম, মামলা নং- ১০/২০ তারিখঃ১৭/৪/২০২০, এই মামলার বাদী একই গ্রামের আরিফ হোসাইন, মামলা নং- ৪/১৬ তারিখঃ ৫/৪/২০১৬, এই মামলার বাদী চর লক্ষ্মীর অরুন চন্দ্র সাহার পুত্র রাজিব সাহা, ২০১৭ সালের ২৩ ও ২৪ মে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুন্না ও তার বাহিনীর তান্ডব এখনো চোখে ভাসছে রামগতিবাসীর। মুন্নার হাতে তার শ্বশুর মোতাহের হোসেন ২০১৮ সালের ২১ মে রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চলমান মামলায় অভিযুক্তসহ নানা অপকর্মের বিষয়ে ইউপি সদস্য মুন্নার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী মুন্না ও তার বাহিনীর তান্ডব থেকে বাঁচতে পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোলাইমান জানান, আসামী গ্রেফতারের জন্য পুলিশ আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil