মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

মামলায় সহযোগিতা করায় হত্যার শিকার আইনজীবী আসাদুল

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০, ১০.৩০ পিএম
  • ৮১ বার পঠিত

 

মোঃ আরিফ শেখ , রংপুর প্রতিনিধিঃ

নারী নির্যাতন মামলায় সহযোগিতা করার ক্ষুদ্ধতা থেকে রংপুরে আইনজীবি আসাদুল হক ওরফে আসাদকে (৬০) দিনে-দুপুরে গলাকেটে হত্যা করেছে প্রতিবেশী রতন মিয়া। স্ত্রীর করা নারী নির্যাতন মামলায় সহযোগিতা ও রাস্তায় দেখা হলে খারাপ ভাষায় গালি-গালাজ করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আসামী রতন ওই আইনজীবিকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী মুত্তাকি ইবনু মিনান। হত্যাকান্ডে জড়িত রতনের আরেক সহযোগি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতারসহ চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবি ও সাবেক এপিপি আসাদুল হক ওরফে আসাদ তার নিজ বাড়ি নগরীর ধর্মদাস বারো আউলিয়া এলাকা থেকে মর্ডাণ মোড় যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হন। এ সময় রতনকে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে আসাদুল হক তাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। রতন এর কোন উত্তর না দিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এরপর বাড়িতে এসে প্রতিবেশী আইনজীবীর বাড়িতে চুরি এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন জুম্মার নামাজের আগে ধারালো চাকু নিয়ে আইনজীবীর বাড়িতে অবস্থান করে। সেখানে একটি ড্রয়ার থেকে ৭ হাজার ৩১৭ টাকা চুরি করে আসাদুল হকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আসাদুল হক শয়নকক্ষে প্রবেশ করলে ওৎ পেতে থাকা রতন তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে কয়েকবার আসাদুল হকের পেটে ছুরিকাঘাত করে। এসময় রতনের নাম ধরে চোর চোর চিৎকার করলে রতন চাকু দিয়ে আসাদুলের গলায় কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এদিকে আইনজীবীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে রতন বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পার্শ্ববর্তী কচু ক্ষেতে লুকিয়ে থাকে। এলাকাবাসী রতনের হাতে চাকু ও রক্তমাখা শার্ট দেখে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

এর পরদিন শনিবার (৬ জুন) রতন মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামী সাইফুল ইসলামকে ওই দিন গ্রেফতার করা হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, রংপুর কোতয়ালী থানায় রতন মিয়ার নামে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। নারী নির্যাতনের মামলায় আইনজীবি আসাদুল হক রতনের স্ত্রীকে সহযোগিতা করে। এতে করে রতনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছিলো। এর আগেও রতন ওই আইনজীবীর বাড়িতে চুরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ্ কাওসার, রংপুর কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার জমির উদ্দিন ও তাজহাট থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil