শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়া-কুয়াকাটা সহ ২১টি কিন্ডারগার্টেনের ১৯৭ জন শিক্ষক শিক্ষিকা দূর্ভোগে

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০, ২.৩৭ পিএম
  • ৭৫ বার পঠিত

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কলাপাড়া-কুয়াকাটা প্রতিনিধি:-

কিছুদিন আগেও স্কুল প্রাঙ্গন মুখরিত ছিল শিশুদের ও শিক্ষকদের ভালোবাসা আর পাঠদানের আড্ডায় হঠাৎ বন্ধ হয় স্কুল গাড়ির চাকা, ধুলা পড়ে রয়েছে খেলাধুলার সামগ্রী ।

করোনার ভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবে খুলবে তাও জানা নেই, শিক্ষার্থী নেই তাই বেতনও নেই শিক্ষকদের যে কারণে শিক্ষার্থীদের বেতনের উপর নির্ভরশীল ছিল কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভা সহ প্রায় ২১টি কিন্ডারগার্টেনের অন্তত ১৯৭ জন শিক্ষক কর্মচারী,তারা আছে চরম বিপাকে চরম দূর্ভোগে রয়েছে এইসব কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক শিক্ষিকা।

কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষকদের বেতন আসে শিক্ষার্থীদের ফ্রি ও বেতন থেকে,
শিক্ষকরা নির্ভরশীল থাকে টিউশনি ও প্রাইভেট টিউশনির উপরে, করোনা ভাইরাস এর কারনে অনিশ্চিত সময়ের কালে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ে এই শ্রেণীর শিক্ষকরা।

এসব শিক্ষকদের যেমন বন্ধ রয়েছে টিউশনি বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউশনি তাই চরম দূর সময় পার করছেন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষিকা গত ১৬ শে মার্চ থেকে একযোগে বন্ধ ঘোষণা করে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এরপর চার দফা বেড়েছে বন্ধের মেয়াদ, সম্প্রতি সীমিত পরিসরে কিছু সংখ্যক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলো সরকারি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কুয়াকাটা পৌরসভা সহ ২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুই একটা প্রতিষ্ঠান নিজেদের অর্থায়নে কিছুসংখ্যক বেতন বাতা পরিশোধ করলো অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মার্চ মাসের পর থেকে বেতন দিতে পারেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের।

এখন পর্যন্ত কলাপাড়া উপজেলা কুয়াকাটা সহ এই কিন্ডারগার্টেনের মোট ছাত্র-ছাত্রীর আছে ২৯৯৭ জন শিক্ষক রয়েছে ১৯৭ জন এই চলমান অবস্থায় হঠাৎ বন্ধের ঘোষণা আসে সরকারি নির্দেশ মেনে এইসব স্কুলগুলো সাময়িকের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন কলাপাড়া কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন কমিটি।

কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা পৌরসভাসহ প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীদের ২৫ ভাগ প্রাথমিক শিক্ষা চাহিদা পূরণ করে এই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো দীর্ঘ সময় এই সমস্যা চলতে থাকলে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

আলিপুর মডেল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক মোঃ এস,এ রহমান মাস্টার বলেন কিন্ডারগার্টেন সব সময় ছাত্র ছাত্রীদের বেতনের উপরে নির্ভরশীল থাকে শিক্ষকরা,
তাই এই অভিশপ্ত সময় বন্ধ রয়েছে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীরা না আসতে পেরে প্রাইভেট টিউশনি না করাতে পেরে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা, তিনি আরো বলেন এই কর্ম থেকে যতটুকু অর্থ উপার্জন হয় সেটুকু দিয়ে আমাদের সংসার চলে তার সাথে তাল মিলিয়ে মোঃ বেলাল সাংবাদিকদের জানান ,আমরা এমন একটি পর্যায় আছি যে উঁচু পর্যায়ের নেই নিশ্চুপ পর্যায়নেই, যদি নিশ্চুপ পর্যায় থাকতাম তাহলে হাত পেতে সহযোগিতা চেয়ে থাকতাম তাই আমাদের সরকার ও প্রশাসনের কাছে আবেদন এই সময় আমাদেরকে মানবতার ও সহযোগিতা প্রকাশিত করার জন্য।

এদিকে কলাপাড়া কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল সুজন জানান যে ,এখন এই মহামারীর সময় আমাদের কিন্ডারগার্টেনের স্কুলগুলো নিয়ে দুর্ভোগের সময় চলছে, কারণ আমাদের এই স্কুলগুলো বেশিরভাগই ভাড়া নিয়ে স্কুল পরিচালনা করতে হয় শিক্ষকের বেতন থেকে শুরু করে স্কুল ভাড়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বেতন থেকে যা অর্থ আসে সেই অর্থ দিয়ে পরিশোধ করে থাকি, তিনি বলেন এরকম যদি চলতে থাকে তাহলে এইসব স্কুলগুলো টিকিয়ে রাখা অনেক কষ্টসাধ্য হবে, তাই এই মহামারী সময় আমাদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে থাকার জন্য অনুরোধ করছেন।
কলাপাড়া কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের দাবি শিক্ষা ক্ষেত্রকে বিশাল এই জ্ঞানের ভান্ডার কে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে সহযোগিতা আশা করছেন।

সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা টিকিয়ে রাখাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার এমনটাই দাবি কিন্ডারগার্টেনের সংশ্লিষ্টদের।

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ / দৈনিক রূপান্তর বাংলাদেশ / কলাপাড়া -কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) মোবাইলঃ ০১৭৫৬৩৮৮৮১৪

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazar1254120z

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অত্র পত্রিকায় প্রকাশিত কোন সংবাদ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। সকল লেখার স্বত্ব ও দায় লেখকের।

Founder Md. Sakil